
তোমার ওযু কি ঠিকমত হচ্ছে ?
তোমাদের ওযু ঠিকমত হয় কিনা চলো আজ একটু চেক করে দেখি।
ওযুর পর আমরা বিভিন্ন ইবাদত করি, তাই ওযু ঠিক না হলে তার পরের কোনো ইবাদতই আল্লাহর কাছে কবুল হয় না।
সালাত, কুরআন তিলাওয়াত, তাওয়াফ ( হজ্বের সময়) সবকিছুই সঠিকভাবে করা ওযুর ওপর নির্ভর করে।
এবার দেখে নাও সম্পূর্ণ সুন্নাহ অনুযায়ী ওযুর ধাপগুলো—
ওযুর ধাপসমূহ
১.“বিসমিল্লাহ” বলা
( মনে মনে বলতে পার অথবা ঐযে বাথরুমে ঢোকার আগের যে দোয়াটা আছে সেটার আগে বিসমিলল্লাহ বলতে হয়। ( চট করে বাথরুমে প্রবেশের দোয়াটা দেখে আস) । ওযু শুরু করার আগে “বিসমিল্লাহ” বলা সুন্নাহ।
২. দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধোয়া
আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে পরিষ্কার করা। ৩ বার
৩. মুখে পানি নিয়ে কুলকুচি করা ।
মুখের সব অংশে পানি পৌঁছানো। মানে পানি মুখের মধ্যে নাড়াবে। ৩ বার
৪. নাকে পানি টেনে ধোয়া -৩ বার
ডান হাতে পানি নিয়ে নাকে টেনে বাম হাতে বের করে ফেলা।মানে সর্দি হলে আমরা নাক ঝাড়ি যেভাবে ঠিক সেইভাবে বাম হাত দিয়ে পানি বের করবে নাক থেকে।
৫.মুখমণ্ডল ধোয়া -৩ বার
কপাল চুলের গোড়া থেকে থেকে থুতনির নিচ অংশ পর্যন্ত এবং দুই কানের পাশ পর্যন্ত পুরো মুখ।
৬.দুই হাত কনুইসহ ধোয়া
প্রথমে ডান হাত, তারপর বাম হাত। কনুই থেকে আগুনের ডগা পর্যন্ত। ৩ বার
৭. মাথা মাসেহ করা (১ বার)
নতুন পানিতে হাত ভিজিয়ে কপালে চুলের গোড়া থেকে মাথার পেছনে চুলের শেষ অংশ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আবার সামনে যেখান থেকে শুরু করেছিলে সেখানে আনা। মেয়েদের জন্য পিছন থেকে আবার সামনে নিয়ে আসা কস্ট মনে হলে যতটুকু সম্ভব কতটুকু করা
৮. কান মাসেহ করা (১ বার)
মাথা মাসেহ করার পর আর হাত ভিজাবে না। ঐ হাতেই তর্জনি দিয়ে কানের ভিতর ঘুরিয়ে আনবে আর বুড়া আংগুল ( একে বুড়া আংগুল কেন বলে নো আইডিয়া) দুই কানের পিছনে মাসেহ করা।
৯. পা ধোয়া (৩ বার)
ডান পা থেকে শুরু করে টাখনু পর্যন্ত পুরো পা ধোয়া;
আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছাতে হবে । বাম পা সেইমভাবে।
খুব গুরুত্বপূর্ণ: ওযুর মধ্যে নিচের কাজগুলো করা যাবে না
সব ধাপ একটির পর আরেকটি ধারাবাহিকভাবে করো।
ওযুর মাঝে কোনো বিরতি দেবে না।
- ওযু করতে করতে ফোনে কথা বলা
- মেসেজ চেক করা
- অন্য কোনো দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত হওয়া
- ওযুর মাঝে বেসিন পরিস্কার টিস্যু নাড়া চাড়া করা, আয়নায় তাকিয়ে কোন অংগভংগি করা।
মনে কর ওযু হলো ইবাদতের চাবি।
চাবি ঠিক না হলে দরজাও খুলবে না।
তাই ওযুকে গুরুত্ব দাও, সুন্দরভাবে করো—
ইনশাআল্লাহ তোমার সব ইবাদত পূর্ণতা পাবে।
অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ নোট:
অনেক সময় আমাদের এমন হয়—
“কতবার মুখ ধুলাম? হাত ধুলাম? ভুলে গেলাম…”
চিন্তা করার কিছু নেই।
সিম্পলি পরের ধাপে চলে যাও।
কারণ—
✔ ওযুর প্রতিটি অঙ্গ একবার ধোয়া ফরজ (আবশ্যক)
✔ ২ বা ৩ বার ধোয়া সুন্নাহ
✔ তুমি চাইলে যেকোনোভাবে করতে পারো—
- মুখ একবার ধুলে
- মুখমণ্ডল দুইবার
- পা তিনবার
- অথবা চাইলে সব অঙ্গ একবার করলেও ওযু সম্পূর্ণ সহি হবে।
- তবে ৩ বার করে( মাথা মাসেহ ও কান মোছা বাদে) ধোয়া উত্তম।
যে অঙ্গ ধুচ্ছ, সেখানে কোনো শুকনো অংশ যেন না থাকে। কিন্তু ৩ বারের বেশি ধোয়া নিষেধ।
তাই গণনা ভুলে গেলে দুশ্চিন্তা করো না—
একবার হল ফরজ, বাকি Sunnah — যদি দেখ ওযুর অংগ ভেজা তাহলে তুমি একবার অন্তত করেছ নিশ্চিত- তাই তুমি পরের ধাপে এগিয়ে যাও।