আল্লাহ কোথায় থাকেন ?
আল্লাহ কোথায় থাকেন ?

এই প্ল্যাটফর্মে ইসলাম শেখা হয় সবচেয়ে সহজ, পরিষ্কার ও হৃদয়ছোঁয়াভাবে।নামাজ, ওযু, আদব-কায়দা আর আল্লাহকে চেনার সুন্দরতম পথ।

IMG_7487

আল্লাহ কোথায় থাকেন ?

আল্লাহর অবস্হান আকাশের ওপরে, তাঁর সৃষ্টির ওপরে তিনি আছেন। তবে এর মানে এই নয় যে তিনি কোনও প্রকার শারীরিক মাত্রার মধ্যে আবদ্ধ।

তিনি বিশ্বাসীদের খুব নিকটে আছেন এবং তাদের প্রতিটি আহ্বানে সাড়া দেন।

আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা  আমাদের সকল গোপনীয়তা এবং ইচ্ছার কথা জানেন; তাঁর কাছে কিছুই গোপন নয়। তিনি তাঁর জ্ঞান ও শক্তির দ্বারা তাঁর সৃষ্টির সাথে আছেন। তিনি আমাদের  স্রষ্টা এবং রক্ষক। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই ঘটে না।

কুরআন থেকে আল্লাহর সর্বোচ্চ  অবস্হানের  প্রমাণ

পবিত্র কুরআন আল্লাহর “উচ্চতা” বা “মহিমা” বিভিন্ন উপায়ে বর্ণনা করেছে, যেমন তাঁর উচ্চ ও উর্ধ্বে থাকা, এবং কীভাবে তাঁর সৃষ্টি উপর থেকে নেমে আসে এবং তাঁর কাছে আবার ফেরত যায়। এগুলো প্রমান করে যে তিনি আকাশের ওপর রয়েছেন। যেমন –

(উচ্চতা):/Highness

পবিত্র কুরআনে সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতের শেষাংশে  আল্লাহ বলেন
“… এবং তিনি সর্বোচ্চ, মহান।” [২:২৫৫]

(উর্ধ্বে)/ সবার উপরে :/(Above):


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, 

“তিনি নিজের দাসদের উপর পরাক্রমশালী এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, (সর্ববিষয়ে) ওয়াকিফহাল।   …” [৬:১৮]

অর্থাৎ, সমস্ত মস্তক তাঁর সামনে অবনত। দুনিয়ার বড় বড় ক্ষমতাশীলরা তাঁর সামনে অক্ষম। তিনি সব কিছুর উপর বিজয়ী এবং সকল সৃষ্টি তাঁর অনুগত। তিনি তাঁর প্রতিটি কর্মে সুবিজ্ঞ সুকৌশলময় এবং প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে অবগত। অতএব তিনি ভালভাবেই জানেন যে, কে তাঁর অনুগ্রহ ও পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য এবং কে অযোগ্য। ( সুরা আন’আম – ১৮, তাফসির আহসানুল বাইয়ান)

তাঁর কাছ থেকে নেমে আসা বিষয়  /(Things coming down from Him)

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:


“তিনি আকাশ হতে পৃথিবী পর্যন্ত সকল বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর সমস্ত কিছুই তাঁর দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে  যা তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান।   …” [৩২:৫]

আল্লাহ আরো বলেন:

“নিশ্চয় আমরাই কুরআন নাযিল করেছি এবং আমরা অবশ্যই তার সংরক্ষক” [১৫:৯]

যা তাঁর কাছে ফিরে যায় /(Things going up to Him)

১. পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,


“……………… তাঁরই দিকে পবিত্র বাণিসমূহ হয় সমুত্থিত এবং সৎকাজ, তিনি তা করেন উন্নীত । আর যারা মন্দকাজের ফন্দি আঁটে তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। আর তাদের ষড়যন্ত্র, তা ব্যর্থ হবেই।  …” [৩৫:১০]

২. “ফেরেশতা এবং রূহ আল্লাহ্র দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর …” [৭০:৪]


৩. “আল্লাহ্ তা‘আলা কাজকর্ম পরিচালনা করেন আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত অতঃপর তাঁর দিকে উর্ধ্বগমন করে এমন এক দিনে যা তোমাদের হিসাব অনুযায়ী এক হাজার বছরের সমান।” [সূরা আসসাজদাহ: ৫]  

আল্লাহ আকাশের ওপর রয়েছেন (Allah is above Seven Skies):

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,  

“তোমরা কি এ থেকে নিৰ্ভয় হয়েছো যে, যিনি আসমানে রয়েছেন , তিনি তোমাদেরকে সহ যমীনকে ধ্বসিয়ে দেবেন, অতঃপর তা হঠাৎ করেই থর থর করে কাঁপতে থাকবে?” [৬৭:১৬]

এর দ্বারা একথা বুঝায় যে, আল্লাহ উপরে থাকেন। 

সহিহ হাদিসে আছে, মু’আবিয়া ইবন হাকাম আসসুলামী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এক দাসীকে খুব জোরে চড় মেরেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাজটাকে নেহায়েত বড় অন্যায় হয়েছে বলে প্ৰকাশ করলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে স্বাধীন করে দেব না? 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তাকে আমার কাছে নিয়ে এস।”

 আমি দাসীটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে আসলে তিনি দাসীকে জিজ্ঞেস করলেন, “আল্লাহ কোথায়?”

 সে বলল, “আসমানে।”

 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কে”?

 সে বলল, “আপনি আল্লাহর রাসূল।”

তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, একে মুক্ত করে দাও, এ ঈমানদার। [আবু দাউদঃ ৩২৮২]

হাদিস দিয়ে জানি আল্লাহর অবস্হান

সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে , প্রিয় নবী সা. যখন সর্ববৃহৎ সমাবেশ বিদায় হজ্জের ভাষনে তিনি আংগুল উপরমুখী করে সকল মানুষদের জিজ্ঞেস করেন, 

“আমি কি তোমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে পারিনি?”

তারা বলেন, “হ্যাঁ!”

তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, “আমি কি বার্তা পৌঁছে দিতে পারিনি?”

তারা বলেন, “হ্যাঁ!” 

তিনি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কি বার্তা পৌঁছে দিতে পারিনি?” 

তারা বললেন “হ্যাঁ!” 

প্রতিবার তিনি বলেন: “হে আল্লাহ, সাক্ষী থাক!”  আকাশের দিকে নির্দেশ করে এবং তারপর মানুষদের দিকে।

আরও অনেক হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দো‘আ  করার সময় তিনি আকাশের দিকে হাত উঁচু করে রাখতেন। এগুলোর দ্বারা  প্রমাণ হয়  যে আল্লাহ মহান ও উচ্চ।

আল্লাহ সুবহানাতায়ালা সুরা আল গাফিরের ১৫ নং আয়াতে বলেন-

“তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী আরশের অধিপতি”

অর্থাৎ আল্লাহ সুবাহানাতালা আরশে অবস্থান করছেন আর তাঁর আরশ রয়েছে সমস্ত সৃষ্টি জগতের ঊর্ধ্বে।

সুবহানআল্লাহি ওয়াবিহামদিহী সুবহানআল্লাহিল আযীম

শেয়ার করুন

Related Topic