
আল্লাহর পরিচয় জানি-
আল্লাহর পরিচয় জানা খুবই সহজ। কারন. আল্লাহর পরিচয় আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন পবিত্র কুরআনে।
সুরা ইখলাস পবিত্র কুরআনের ১১২ নং সুরা। কত ছোট একটা সুরা। সবার মুখস্থ । তোমাদের ও তাইনা? কত শতবার পড়া হয়েছে এই সুরাটা। অথচ জানো, এটিই আল্লাহর পরিচয়।
একটি হাদিস শোনো, হযরত উবাই ইবনে কাব রা. থেকে বর্ণিত আছে মুশরিকরা নবী করীম সা. কে বলল,
“হে মুহাম্মদ! আমাদের সামনে তোমার প্রতিপালকের গুণাবলী বর্ণনা কর।”
তখন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা এই সুরা ইখলাস অবতীর্ণ করেন।
অর্থ: তিনি আল্লাহ এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী । তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারো সন্তান নন । তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।
আল্লাহ, যিনি সৃষ্টি হননি এবং যার কোন সন্তানসন্ততি নেই। কেননা যে সৃষ্টি হয়েছে সে একসময় মৃত্যুবরণ করবে এবং অন্যেরা তার উত্তরাধিকারী হবে। আর আল্লাহ তা’আলা মৃত্যুবরণ করবেন না এবং তাঁর কোন উত্তরাধিকারীও হবে না। তিনি কারো সন্তান নন এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। আল্লাহু আকবার।
আয়াতুল কুরসী (সূরা আলবাকারা, আয়াত ২৫৫)
এই আয়াতটি কুরআনের সবচেয়ে মহৎ ও উৎকৃষ্ট আয়াত। এই আয়াতে মহান রব আল্লাহ সুবহানাতায়ালার একত্ব (তাওহীদ) এবং অসীম গুণাবলী অনন্যভাবে বর্ণিত হয়েছে। সুরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতকে আয়াতুল কুরসী বলা হয়।
আয়াতুল কুরসি
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহু লা ইলা–হা ইল্লা হুয়াল–হাইয়্যুল–ক্বয়্যুম।
লা তাখুযুহূ সিনাতুঁ ওয়া লা নাওম।
লাহূ মা ফিস–সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল–আর্ত।
মান যাল–লাযি ইয়াশফাউ ‘ইন্দাহূ ইল্লা বিইযনিহি।
ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়া মা খলফাহুম।
ওলা ইউহীতোনা বিছাই–ইম মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা’আ।
ওয়াসি‘আ কুরসিইয়্যুহুস–সামাওয়াতি ওয়াল–আর্ত।
ওলা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা।
ওয়া হুয়াল ‘আলীইয়্যুল–আযীম।
এই আয়াতের অর্থ-
“আল্লাহ—তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সমস্ত সৃষ্টি-জগতকে ধারনকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না। আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে না। তিনি জানেন তাদের সামনে ও পেছনে যা আছে। তাঁর জ্ঞান থেকে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তাঁর ইচ্ছা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ, মহান।”
এখানে বলা হয়েছে আল্লাহ সত্তা হিসেবে একক, চিরঞ্জীব, সব শুনতে ও দেখতেও পান এবং সম্পূর্ণ জ্ঞানশীল।
তিনি সৃষ্টির অপরিহার্য রক্ষক, সমস্ত বিশ্বের একমাত্র স্রষ্টা ও নিয়ন্ত্রক, এবং তাঁর সত্তা অসীম ও অনন্তকাল পর্যন্ত স্থায়ী।
আল্লাহ সমগ্র বিশ্বের একমাত্র অধিপতি, তাঁর চেয়ে বড় বা সমতুল্য কেউ নেই। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর সামনে কিছু বলতে বা চাইতে পারে না।
সুবহানআল্লাহি ওয়াবিহামদিহী সুবহানআল্লাহিল আযীম
নিজর রবকে না জানলে সঠিক জ্ঞান না থাকলে ইবাদতে কোনই মজা নাই ।
এতক্ষনে আল্লাহ কে সেটা তো জানা হল ।
এখন জানব তিনি কোথায় থাকেন।