
হজ কী
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ যিলহজ মাসে কাবা শরীফ এবং তার আশপাশের পবিত্র স্থানে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যে ইবাদত করা হয়, তাকে হজ বলা হয়।
হজের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মুসলমান একই পোশাক পরে, একই উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘরে সমবেত হয়। এতে সমতা, ভ্রাতৃত্ব এবং আল্লাহভীতির শিক্ষা পাওয়া যায়। যাদের উপর হজ ফরজ, তারা হজ আদায় না করলে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অপূর্ণ থেকে যায়।
কাবা নির্মাণ ও হজের আহ্বান
আল্লাহ তাআলার নির্দেশে নবী ইবরাহিম (আ.) এবং তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) মক্কায় কাবা শরীফ নির্মাণ করেন। কাবা নির্মাণের সময় তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যেন এই ইবাদত কবুল হয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন
“আর যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল কাবার ভিত্তি স্থাপন করছিল, তখন তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন।”
সূরা আল-বাকারা ২:১২৭
কাবা নির্মাণ শেষ হওয়ার পর আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম (আ.)-কে মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
“আর মানুষের মাঝে হজের ঘোষণা দাও, তারা তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং দূরদূরান্ত পথ পাড়ি দিয়ে।”
সূরা আল-হজ্জ ২২:২৭
এই ঘোষণার মাধ্যমে হজের সূচনা হয়, এবং আল্লাহ সেই আহ্বান মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেন।
হজ কখন ফরজ হয়
হজ জীবনে একবার ফরজ হয় প্রত্যেক সেই মুসলিমের উপর, যার আর্থিক সামর্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা এবং নিরাপদ পথ রয়েছে। সামর্থ্য থাকলে হজ আদায় করা ফরজ এবং দেরি করা উচিত নয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন
“মানুষের উপর আল্লাহর জন্য কাবা ঘরের হজ করা ফরজ, যে সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম।”
সূরা আলে ইমরান ৩:৯৭
হজ কেন ফরজ
- আল্লাহর সরাসরি আদেশ পালন করা
- ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর অনুসরণ করা
- আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং গুনাহ মাফের মাধ্যম হওয়া
- ঈমানকে পরিপূর্ণ করা
মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন
“যে ব্যক্তি হজ করে এবং অশ্লীলতা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকে, সে এমনভাবে ফিরে আসে যেন সে নতুনভাবে জন্ম নিয়েছে।”
Sahih al-Bukhari ও Sahih Muslim
হজের গুরুত্ব ও সতর্কতা
হজ এমন একটি ইবাদত যা জীবনে একবার ফরজ। তবে সক্ষম হওয়া মাত্রই এটি আদায় করা উচিত। “বুড়ো বয়সে করব” এই চিন্তা সঠিক নয়, কারণ জীবনের নিশ্চয়তা নেই।
যখনই শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হও, তখনই হজ আদায় করা উচিত।