
প্রিয় সন্তানেরা, জানো শুক্রবার দিনটি প্রতিটি মুসলিমের কাছে খুবই স্পেশাল। কারণ প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
“জুমার দিনের চেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ আর কোনো দিন নেই। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।” (তিরমিজি)
“জুমা দিনে বারোটি ঘণ্টা রয়েছে। তার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, যখন মুমিনের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। এই মুহূর্তটি আসরের পর শেষ ঘণ্টায় খোঁজা উচিত।” (আবু দাউদ, আন-নাসায়ী)
“যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ (কুরআনের ১৮ নম্বর সূরা) তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার জন্য পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর (আলোকবর্তিকা) দান করবেন।” (বাইহাকী)
“সূর্য যে দিনে উদিত হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.) সৃষ্টি হয়েছিলেন। এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছিল, এ দিনেই তিনি জান্নাত থেকে বিদায় নেন এবং এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়। আর কিয়ামতের ঘটনাও সংঘটিত হবে জুমার দিন।” (মুসলিম)
শুক্রবারে খুব সহজেই আমরা কিছু অতিরিক্ত সওয়াব অর্জন করতে পারি। আল্লাহ আমাদের জন্য অসাধারণ সুযোগ রেখেছেন যেমন অবসর সময়ে সামান্য পরিশ্রমে বাড়তি উপার্জন করে নেওয়া যায়, ঠিক তেমনিভাবে একটু চেষ্টা করলেই বিশাল নেকি পাওয়া সম্ভব।
শুক্রবারে যা যা করবে
শুক্রবার দিনটি প্রতিটি মুসলিমের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। শুক্রবার দিনটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে গণ্য হয়। এ দিনে ভালো খাবার খাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড় পরা এবং পরিবারের সাথে সময় কাটানো উত্তম। মনে রেখো, ইসলামি ক্যালেন্ডারে দিন শুরু হয় সন্ধ্যা থেকে, তাই শুক্রবারের ফজিলত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়।
১. বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই দরুদ পাঠ শুরু করো
আমরা যে দরুদ সালাতে পড়ি (দরুদে ইব্রাহিম), সেটি বেশি বেশি পড়বে। এ ছাড়াও ছোট দরুদগুলোর মধ্যে যেটি ভালো লাগে সেটি যতবার পারো পড়বে:
- ১. صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
- উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
- অর্থ: আল্লাহ তাঁর প্রতি শান্তি ও বরকত নাজিল করুন।
- অথবা
- ২. اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ
- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।
- অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মদের প্রতি রহমত ও শান্তি নাজিল করুন।
- অথবা
- ৩. اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ
- হে আল্লাহ! আপনি (আপনার নিকটস্থ উচ্চসভায়) মুহাম্মাদকে সম্মানের সাথে স্মরণ করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে, যেমন আপনি সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন ইবরাহীমকে ও তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার পরিজনের উপর বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহামহিমান্বিত
- আল্লা-হুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিউওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিউওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন, কামা বা-রাকতা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ
এই দরুদগুলোর মধ্যে যেটা তোমার জন্য সহজ হয় সেটা শুক্রবার মাগরিবের আগ পর্যন্ত যত বেশি সম্ভব পড়ার চেষ্টা করো।
২. সূরা কাহফ পড়বে
শুক্রবার সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ (এটি কুরআনের ১৮ নং সূরা)। এর ভেতরে চমৎকার সব কাহিনী আছে, বিশেষ করে সেই তরুণদের কাহিনী যারা তাদের ঈমান রক্ষা করতে একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং আল্লাহ তাদের অলৌকিকভাবে সাহায্য করেছিলেন।
টিপস: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই সূরা কাহফ পড়া শুরু করতে পারো। একবারে পুরোটা না পড়ে প্রতি ওয়াক্তে ২০টি করে আয়াত বা ৫-৭ মিনিট করে পড়লে শুক্রবার আসরের মধ্যেই পুরো সূরা শেষ হয়ে যাবে। এতে কষ্ট কম হবে এবং আমলটিও পূর্ণ হবে।
৩. আসর থেকে মাগরিবের মাঝে বেশি করে দোয়া করো
এই সময়টিতে দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। যদি তুমি খুব ব্যস্ত থাকো বা বাসার বাইরে থাকো, তবুও তোমার “Magic Dua List” থেকে অন্তত ছোট ছোট কয়েকটি দোয়া অবশ্যই পড়ে নেবে।
প্রিয় সন্তানেরা, চেষ্টা করবে প্রতি ওয়াক্ত সালাত মসজিদে গিয়ে জামাতে আদায় করতে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবারের এশা, শুক্রবারের ফজর এবং জুমার সালাত অবশ্যই মসজিদে পড়ার চেষ্টা করবে। এই অভ্যাসটি কখনো ছাড়বে না।
আল্লাহ তোমাদের জন্য শুক্রবারের আমল সহজ করে দিন এবং অশেষ সওয়াবের দরজা খুলে দিন। আমিন।
জুমার দিনের কিছু সুন্দর আমল
- পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরো
- সম্ভব হলে তোমার সবচেয়ে ভালো পোশাকটি পরো
- সুগন্ধি ব্যবহার করো
- গোসল করে পবিত্র হও
- হাসিখুশি থাকো এবং মন ভালো রাখো
- বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ো
- সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করো
- সময়মতো জুমার সালাতের জন্য প্রস্তুত হও
- বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করো
- পরিবার ও মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করো
জুমার দিন মুসলিমদের জন্য একটি বিশেষ ও বরকতময় দিন। এই দিনটিকে আনন্দ, পরিচ্ছন্নতা এবং ইবাদতের মাধ্যমে সুন্দরভাবে কাটানোর চেষ্টা করো।