
যাকাতএকশো জনকে সামান্য করে দেওয়ার চেয়ে একজনকে প্রতিষ্ঠা করা উত্তম।
যাকাতের মূল উদ্দেশ্য গরিবকে সাময়িক সাহায্য নয়, তাকে পুনর্গঠন (establish) করা, যেন সে ভবিষ্যতে নিজেই উপার্জন করতে পারে।
রাসুল সাঃ বলেছেন—
“সদকা হলো যা দিয়ে তুমি মানুষকে স্বনির্ভর করো।”
— হাদীস (বাইহাকি)
অর্থাৎ—
একশো লোককে ২০০ টাকা করে দেওয়ার চেয়ে একজন গরিবকে
- দোকান খুলে দেওয়া
- কর্মসংস্থান করে দেওয়া
- রিকশা, ভ্যান কিনে দেওয়া
- ব্যবসার পুঁজি দেওয়া
এগুলো অনেক বেশি উপকারী এবং সুন্নাহসম্মত। কারণ এর মাধ্যমে সে ভবিষ্যতে আর যাকাতগ্রহণকারী নয়, বরং যাকাতদাতা হয়ে উঠতে পারে।
যাকাত নিয়ে অহংকার করা হারাম — কারণ এটি গরিবের হক
অনেকে এটা ভেবে আত্মতৃপ্তি পায় যে সে অনেক যাকাত দিয়েছে এই বছর । এবং মানুষকে বলে বেড়ায় এবং সমাজে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি যেন বাড়ে এবং মানুষ যেন তাকে সমীহ করে এভাবে অনেকেই যাকাত দিয়ে থাকে। আবার দেওয়ার পরে সে মনে করে সে গরীবদের অনেক উপকার করেছে। মনে রাখবে, যাকাত দিলে আমরা কারও ওপর উপকার করি না, বরং তাদের প্রাপ্য অংশ ফিরিয়ে দেই।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“তোমার সম্পদে গরিবদের নিদিষ্ট অধিকার আছে।”— সূরা আয-যারিয়াত 51:19
তাই যাকাত দিয়ে—
- গরিবকে ছোট করা
- নিজের দান দেখানো
- ছবি তুলে প্রচার করা
- যাকাত দিয়ে খোটা দিয়ে তাদের সম্মানহানি করা- সবই কঠোরভাবে নিষেধ।
- ছবি তুলে দেখানো যাবে না
- বিনিময় আশা করা যাবে না
- লজ্জা দেওয়া যাবে না
- তাদের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে
রাসুল সাঃ বলেছেন— “দানের মাধ্যমে কাউকে কষ্ট দিও না, তার সম্মানহানি করো না।”
— সহীহ মুসলিম
সংক্ষেপে জানো –
- যাকাত মানুষের নয়, বরং আল্লাহর হুকুম।
- ২ হিজরিতে যাকাত ফরজ হয়।
- যাকাত দান নয়—এটি গরিবদের হক।
- কুরআনে সুরা তাওবা ৬০ নং আয়াতে বলা হয়েছে ৮ শ্রেণির মানুষ যারা যাকাত পেতে পারে।
- যাকাত দিয়ে মানুষের জীবনে স্থিতিশীলতা আনা উত্তম।
যাকাতের মাধ্যমে অহংকার করা নিষিদ্ধ।