
প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আমার প্রিয় সন্তানরা,
ইসলাম শুধু ইবাদত ও দোয়া শেখায় না, বরং আমাদের চারপাশের মানুষদের, বিশেষ করে প্রতিবেশীর সাথে কেমন আচরণ করতে হবে তাও শিক্ষা দেয়। মুসলিম বা নন মুসলিম সকল প্রতিবেশীর জন্য একই নিয়ম।
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন:
“জিবরাইল (আঃ) আমাকে প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে এত বেশি নসিহত করেছেন যে, আমি ভেবেছিলাম শিগগিরই প্রতিবেশীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের অধিকারও দেওয়া হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)
এটা প্রমাণ করে যে ইসলামে প্রতিবেশীর মর্যাদা কত উঁচু।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন:
“যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং আখেরাতের দিন বিশ্বাসী, সে যেন প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ করে।”
(সূরা আননাহল, ১৬:৯০)
নবী সাঃবলেছেন:
“যে ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে নিরাপদ রাখে, সে ঈমানের পূর্ণতা পেয়েছে।”(বুখারি ও মুসলিম)
তোমরা যেন সবসময় প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর, ভদ্র ও সহানুভূতিশীল আচরণ করো।
মনে রেখো-
১. প্রতিবেশীর প্রতি সদয় ও নম্র থাকবে
হাসিমুখে কথা বলবে। মুখে হাসি, আচরণে ভদ্রতা—এগুলো মানুষের হৃদয় জয় করে।
২. তাদের কষ্টে পাশে দাঁড়াবে
যদি প্রতিবেশী অসুস্থ হয়, সমস্যায় পড়ে, বা কোনো সাহায্য প্রয়োজন হয়, সাধ্যমতো সাহায্য করবে।
এটি ইসলামের একটি বড় সুন্নাহ।
৩. কখনো তাদের কষ্ট দেবে না
বাড়ীতে জোরে শব্দ করা, গাড়ি অন্যের জায়গায় পার্ক করা, ঝগড়া করা বা তাদের শান্তি নষ্ট করা, কোন কারনে কস্ট দেয়া -এসব ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ।
৪. খাবারের অংশ শেয়ার করবে
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন: “যখন রান্না করবে, ঝোল বাড়িয়ে তোমার প্রতিবেশীকে দাও।” (মুসলিম)
বাড়ীতে ভাল কিছু রান্না করলে প্রতিবেশির বাড়ীতে পাঠাবে।
৫. তাদের অধিকার সম্মান করবে
– তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করবে
– অনুমতি ছাড়া কারও বাড়িতে ঢুকবে না
– তাদের কোন গোপন কথা ফাঁস করবে না, মানে অন্য কাউকে বলবেনা।
৬. নতুন প্রতিবেশী এলে তাদের স্বাগত জানাবে
যদি মুসলিম হয় হাসিমুখে সালাম দেবে এবং নিজেকে পরিচয় করাবে। নিজে আগে যাবে কথা বলতে। নন- মুসলিম হলেও তাকে হাঁসি মুখে স্বাগতম জানাবে।
৭. কেউ অসুবিধায় আছে মনে হলে খোঁজ নেবে
“আন্টি, আপনি ভালো আছেন?”
“আপনাদের কোনো সাহায্য লাগবে?”
এই ছোট কথাগুলো অনেক বড় ইমপ্যাক্ট ফেলে।
৮. প্রতিবেশীর অধিকার আছে-মুসলিম হোক বা না হোক
ইসলাম সব ধর্মের মানুষের প্রতি দয়া, সম্মান ও মর্যাদা শিখায়।
প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর সম্পর্ক শুধু ভদ্রতা না, এটি একধরনের ইবাদত এবং জান্নাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ।