
পবিত্র কুরআন: মানবজাতির জন্য হেদায়াত
পবিত্র কুরআন হলো আল্লাহ তাআলার বাণী, যা তিনি মানবজাতির হেদায়াতের জন্য নাজিল করেছেন। পবিত্র কুরআন আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান গ্রন্থ। এটি কোনো মানুষের লেখা নয়; এটি আল্লাহ তাআলার বাণী, যা তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য নাজিল করেছেন। কুরআন শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, বরং সব মানুষের জন্য হেদায়াত ও পথনির্দেশনা। এটি শেষ আসমানি কিতাব। এটি কিয়ামত পর্যন্ত সকল যুগের জন্য প্রযোজ্য
এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য নাজিল হয়েছে।
📖 পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“এটি এমন এক কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত।”
— সূরা আল-বাকারা: ২
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন—
“এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য উপদেশ, হেদায়াত ও রহমত।”
— সূরা আল-জাসিয়া: ২০
কুরআন কোথায় ছিল দুনিয়াতে নাজিল হওয়ার আগে
কুরআন নাজিল হওয়ার আগে আল্লাহ তাআলার কাছে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল।
📖 পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন-
“বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা সংরক্ষিত আছে লাওহে মাহফুজে।”
— সূরা আল-বুরুজ: ২১–২২
তুমি হয়তো ভাবছো লাওহে মাহফুজ” কি তাই না ? চলো জানি –
লাওহে মাহফুজ (Lauh al-Mahfuz) — কি?
“লাওহে মাহফুজ” (আরবি: اللوح المحفوظ) শব্দটির অর্থ “সুরক্ষিত/সংরক্ষিত ফলক (tablet)”। ইসলামে এটি এমন এক ফলক ( Tablet )বোঝায়, যেখানে আল্লাহ তাআলার পরিকল্পনা, নিয়ামতগুলো এবং সমস্ত সৃষ্টি-ঘটনা লেখা আছে যা পরিবর্তন যোগ্য নয়।
- “লাওহ” মানে ফলক/লেখার পৃষ্ঠতল,
- “মাহফুজ” মানে রক্ষিত/সুরক্ষিত।
সুতরাং “লাওহে মাহফুজ” হলো একটি সুরক্ষিত, পরিবর্তন-অযোগ্য ফলক।
- বিশ্লেষকদের মতে, লাওহে মাহফুজ হলো সেই ফলক বা স্হান যেখানে আল্লাহর সকল নির্ধারিত বিধান, সৃষ্টি ও পরিকল্পনা লেখা আছে।
- এটি সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত ও নিরাপদ, যাতে কোনো পরিবর্তন বা বিয়োগ করা যায় না।
লাওহে মাহফুজ-এর ধারণা আমাদের কাছে এই সত্যটি তুলে ধরে যে—
✔️ আল্লাহ সবকিছু পূর্বেই জানেন ও রেকর্ড করেছেন/ লিখে রেখেছেন।
✔️ তিনি যা করবেন তা সবই ইতোমধ্যে স্থিরভাবে নির্ধারিত।
✔️ পৃথিবীতে ঘটছে এমন প্রতিটি কাজ ও ঘটনা এই রেকর্ড-এর আওতায় আছে।
কিভাবে কুরআন নাজিল হয়েছে
কুরআন দুই ধাপে নাজিল হয়েছে—
- একবারে সম্পূর্ণ কুরআন
- লাওহে মাহফুজ থেকে বাইতুল ইজ্জাহ (আসমানের প্রথম স্তর) এ অবতীর্ণ হয়
- লাওহে মাহফুজ থেকে বাইতুল ইজ্জাহ (আসমানের প্রথম স্তর) এ অবতীর্ণ হয়
- ধীরে ধীরে নাজিল
- এরপর প্রায় ২৩ বছরে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর উপর নাজিল করা হয়।
- এরপর প্রায় ২৩ বছরে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর উপর নাজিল করা হয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“আর আমি কুরআনকে অংশ অংশ করে নাজিল করেছি…”
— সূরা আল-ইসরা: ১০৬
কত বছরে কুরআন নাজিল হয়েছে
- মোট সময়: ২৩ বছর লেগেছে কুরআন পরিপূর্ণ ভাবে নাযিল হতে।
- মক্কায়: প্রায় ১৩ বছর
- মদিনায়: প্রায় ১০ বছর
- মক্কায়: প্রায় ১৩ বছর
কার মাধ্যমে কুরআন নাজিল হয়েছে
আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জিবরাইল (আ.) কুরআন নিয়ে আসতেন এবং তা নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর কাছে পৌঁছে দিতেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন-
“রূহুল আমিন (জিবরাইল) এটি নিয়ে নেমেছেন, আপনার হৃদয়ের উপর।”
— সূরা আশ-শু‘আরা: ১৯৩–১৯৪
প্রথম কিভাবে কুরআন দুনিয়াতে আসে / প্রথম ওহি (ওয়াহী)
সমাজের মূর্তিপূজা, অবিচার ও নৈতিক পতনের কারণে নবি সাঃ এসব থেকে নির্জনে একাকি থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সত্যের সন্ধানে তিনি এই গুহায় একান্তে অবস্থান করতেন। রাতের পর রাত তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মহিমা নিয়ে ভাবতেন।
এই ধ্যানই ছিল ওহীর পূর্বপ্রস্তুতি।
এক রমাদান মাসের লাইলাতুল কদরের রাতে ৪০ বছর বয়সে হিরা গুহায় প্রথম ওহী আসে—জীবরীল আ. এই ওহী নিয়ে আগমন করেন আল্লাহর আদেশে।
কুরআনের প্রথম যে আয়াতগুলো নাজিল হয় তা হলো—
“পড়ুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন…”
— সূরা আল-আলাক: ১–৫
এ ঘটনার পর নবি সাঃ ভীত হয়ে খাদিজা (রা.)–এর কাছে যান এবং খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে সান্ত্বনা দেন। এভাবেই নবি সাঃ এর নবুওয়াতী জীবনের সূচনা ঘটে