কুরআনকে চিনি ও ভালবাসি 
কুরআনকে চিনি ও ভালবাসি 

এই প্ল্যাটফর্মে ইসলাম শেখা হয় সবচেয়ে সহজ, পরিষ্কার ও হৃদয়ছোঁয়াভাবে।নামাজ, ওযু, আদব-কায়দা আর আল্লাহকে চেনার সুন্দরতম পথ।

shzern-quran-5385901

চল আমরা কুরআনকে জানি

  • সূরা : ১১৪টি
  • পারা (জুজ): ৩০টি

১. কুরআন শব্দের অর্থ – “কুরআন” (القرآن) শব্দের অর্থ “পাঠযোগ্য”, “তিলাওয়াতযোগ্য” বা “পড়া হয় এমন গ্রন্থ”।

আরবি শব্দমূল: কুরআন শব্দটি এসেছে “قرَأَ” (ক্বারা’আ) ধাতু থেকে, যার অর্থ “পড়া” বা “তিলাওয়াত করা”।

২. সুরা – শব্দের অর্থ পৃথকীকরণ বা উচ্চতা- যেন কোরানের পাঠক এক সূরা বা উচ্চ মর্যাদা হতে আরো উচ্চতম মর্যাদার দিকে পৃথক পৃথকভাবে যেতে পারে বা আরোহন করতে পারে।  এ কথা বলা হয়েছে যে এর অর্থ সৌজন্য বা শ্রেষ্ঠত্ব।  আরবি ভাষায় একে দুর্গ বলা হয়ে থাকে । আবার পূর্ণ ও উস্টীকেও আরবিতে সুরাতুন বলে।(  তাফসীর ইবনে কাসীর প্রথম খন্ড – ৫২)

৩. আয়াত অর্থ – চিহ্ন বা নিদর্শন। সূরা বাকারা ২৪২ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে – ইন্না আয়াতা মুলকিহী 

অর্থাৎ তার (হযরত তালুত আলাই সাল্লাম এর) বাদশা হওয়ার নিদর্শন বা চিহ্ন। এর অর্থ বিস্স্বয়কর হতে পারে। (তাফসীর ইবনে কাসীর প্রথম খন্ড – ৫২)

৪. কতটি আয়াত – কুরআনের মোট আয়াত ছয় হাজার দুইশ চৌদ্দটি ,১৯ টি ,২৫ টি, ২৬ এর কথা বলা আছে

আবু আমোর দানি “কিতাবুল বাইয়ানের” মধ্যে এসব কথা লিপিবদ্ধ করেছেন।( তাফসীর ইবনে কাসীর প্রথম খন্ড – ৫০)

৫. কুরআনের সর্বোত্তম তাফসীর কারক আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু।

তিনি হযরত আলীর যুগে হজের দলপ্রতি নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি তার ভাষনে সুরা বাকারা পাঠ করেন এবং এমন সুন্দর ভাবে তাফসীর করেন যে যদি তুরস্করোম এবং দহি নামের কাফেরগণ তা শুনতো তবে তারা ততক্ষণাত বিনা বাক্যে মুসলমান হয়ে যেত।

৬.প্রথম হাফিজ – মুহাম্মাদ সাঃ

  প্রথম হাফিজা – হাফসা বিনতে উমার ( উমার ইবনে খত্তাবের কন্যা এবং নবী সাঃ এর ৪ নং বিবি)

৭.৭০ বার “কুরআন” শব্দটি উলি্লখিত হয়েছে কুরআনে।

৮. মাক্কি সুরা – ৮৬

৯. মাদিনা – ২৮

১০.কতজন নাবীর নামে সুরা আছে? – ৬ জন

সুরা – মুহাম্মাদ

সুরা – নুহ

সুরা – হুদ 

সুরা – ইব্রাহিম 

সুরা – ইউনুস

সুরা ইউসুফ

১১.ছোট সুরা – আল কাইসার

    বড় সুরা – সুরা বাকারা 

১২. সিজদা – ১৫ টা ।

১৩. কুরআনে মোট শব্দ-  আতাবিন ইয়াসার  রাঃ বলেন কুরআন মাজিদে  মোট শব্দ সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪৩৯ টি শব্দ রয়েছে।( মতান্তর আছে, তাফসীর ইবনে কাসীর প্রথম খন্ড – ৫০)

১৪. কুরআনে মোট অক্ষর – হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তার আমলে কারী হাফেজ এব  লেখকদের একত্রিত করে নির্দেশ দেন অক্ষর সম্পর্কে জানাতে। তারা গবেষণা করে বের করেন যে কুরআনের অক্ষর রয়েছে তিন লক্ষ ৭৪০। ( মতান্ন্তর আছে, তাফসীর ইবনে কাসীর প্রথম খন্ড – ৫০)

১৫. কুরআনের  সবচেয়ে মাঝখানে শব্দফ সূরা কাহাফ এর “ওয়াল ইয়ালাত্তফ”  আয়াত -১৮ এ। (তাফসীর ইবনে কাসীর প্রথম খন্ড – ৫১)

১৬. কুর্তুবি বলেন জমহুর ওলামাদের একমত যে কোরআনের ভিতরে আরবি ভাষা ছাড়া আজমি বা অনারব ভাষার গঠনশৈলী বা অন্য কিছু একেবারেই নেই তবে মাঝে মাঝে অনারব নাম রয়েছে যেমন ইব্রাহিম, নুহ, লুত এগুলো অনারব নাম।

১৭. কোন সুরায় ২ বার বিসমিল্লাহ আছে- সুরা নামাল – ২ বার বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

শুরুর বিসমিল্লাহ – ভিতরে একবার ( আয়াত -৩০)

১৮. মনজিল – কুরআনে ৭টি মঞ্জিল আছে।

🟢 প্রথম মঞ্জিল: সূরা আল-ফাতিহা (১) থেকে সূরা আন-নিসা (৪) পর্যন্ত

🟢 দ্বিতীয় মঞ্জিল: সূরা আল-মায়িদা (৫) থেকে সূরা আত-তাওবা (৯) পর্যন্ত

🟢 তৃতীয় মঞ্জিল:সূরা ইউনুস (১০) থেকে সূরা আন-নাহল (১৬) পর্যন্ত

🟢 চতুর্থ মঞ্জিল:সূরা বনী ইসরাইল (১৭) থেকে সূরা আল-ফুরকান (২৫) পর্যন্ত

🟢 পঞ্চম মঞ্জিল:সূরা আশ-শু’আরা (২৬) থেকে সূরা ইয়াসীন (৩৬) পর্যন্ত

🟢 ষষ্ঠ মঞ্জিল:সূরা আস-সাফফাত (৩৭) থেকে সূরা আল-হুজুরাত (৪৯) পর্যন্ত

🟢 সপ্তম মঞ্জিল:সূরা ক্বাফ (৫০) থেকে সূরা আন-নাস (১১৪) পর্যন্ত

১৯. কতজন নাবীর নাম উল্লেখ আছে ?

     ২৫ জন।

১. আদম (আঃ)
২. ইদ্রীস (আঃ)
৩. নূহ (আঃ)
৪. হূদ (আঃ)
৫. সালিহ (আঃ)
৬. লুত (আঃ)
৭. ইবরাহিম (আঃ)
৮. ইসমাইল (আঃ)
৯. ইসহাক (আঃ)
১০. ইয়াকুব (আঃ)
১১. ইউসুফ (আঃ)
১২. শুয়াইব (আঃ)
১৩. আইয়ুব (আঃ)

  ১৪.যুল-কিফল
১৫. মূসা (আঃ)
১৬. হারুন (আঃ)
১৭. যাকারিয়া (আঃ)
১৮. ইয়াহইয়া (আঃ)
১৯. ইলিয়াস (আঃ)
২০. আল ইয়াসা (আঃ)
২১. ইউনুস (আঃ)
২২. দাউদ (আঃ)
২৩. সুলায়মান (আঃ)
২৪. ঈসা (আঃ)
২৫. হযরত মুহাম্মদ (সা.)

২০. কুরআনের সবচে বড় আয়াত -২.২৮২ ( সুরা বাকারা) । একে আয়াতাল দায়ন বলা হয়। ইসলামে ঋণ, দেন-দাবি ও লেন-দেনের নিয়ম-সমূহ বিশদভাবে নির্দেশিত হয়েছে।

২১. বার্মিংহামে মিউসিয়ামে আছে সাহাবীদের হাতে লেখা কুরআন । সুরা ১৮ , আয়াত ২০-৩১। কার্বন ডেটেড ৫৬৮ -৬৪৫ এর মধ্যে। 

২২. কে একমাত্র সাহাবি যাঁর নাম কুরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে?
➡️ হযরত জায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) হলেন একমাত্র সাহাবি, যাঁর নাম কুরআনে উল্লেখ আছে।
➡️ সূরা আহযাব, আয়াত ৩৭-এ তাঁর নাম এসেছে:

“ফَلَمَّا قَضَىٰ زَيْدٌۭ مِّنْهَا وَطَرًۭا…”


২৩. কোন নারী  নিয়ে কুরআনে একটি পূর্ণ সূরা রয়েছে?
➡️ হযরত মরিয়ম (আঃ) একমাত্র নারী ব্যক্তি, যার নামে কুরআনে একটি পূর্ণ সূরা রয়েছে।
➡️ সেই সূরার নাম সূরা মারইয়াম (সূরা ১৯)।


২৪. কুরআনের কোন সূরায় প্রতিটি আয়াতে আল্লাহর নাম রয়েছে?


➡️ সূরা মুজাদালাহ (সূরা ৫৮) – এই সূরার প্রতিটি আয়াতে আল্লাহর নাম উল্লেখ আছে।
➡️ এটি কুরআনের একমাত্র সূরা যার প্রত্যেকটি আয়াতে “আল্লাহ” শব্দটি আছে।


২৫. কুরআনে মোট কতটি রুকু (رُكوع) আছে?


➡️ ৫৪০টি রুকু কুরআনে রয়েছে।

শেয়ার করুন

Related Topic