
জাহান্নাম এমন একটি জায়গা, যা আল্লাহ তাআলা প্রস্তুত করেছেন তাদের জন্য,
যারা তাঁর আদেশ অমান্য করে, অন্যায় করে, কুফরি করে, এবং তওবা ছাড়া পাপের পথে ডুবে থাকে।
এটি শুধু আগুন নয় বরং এমন শাস্তি, যা মানুষের কল্পনা শক্তিরও বাইরে।জাহান্নামের কথা স্মরণ করাই আল্লাহর রহমত, যাতে মানুষ ভুল পথ থেকে ফিরে আসে এবং পরকালের জন্য প্রস্তুত হয়।
১) জাহান্নামের আগুন সবচেয়ে তীব্র
আল্লাহ বলেন, “জাহান্নামের আগুন খুবই কঠিন শাস্তি।” সূরা বাকারাহ 2:24
২) জাহান্নামের আগুন মানুষের চামড়া পুড়িয়ে দেবে, আবার নতুন চামড়া সৃষ্টি হবে
“তারা যখনই পুড়ে যাবে, আমি তাদেরকে নতুন চামড়া দেব, যাতে তারা শাস্তি অনুভব করতে থাকে।” সূরা নিসা 4:56
৩) জাহান্নামের খাদ্য
“তাদের খাদ্য হবে যাক্কুম গাছ।” সূরা সফফাত 37:62-66
এই গাছের ফল খেলে মানুষের ভিতরটা জ্বলে যাবে।
৪) জাহান্নামের পানীয়
“তারা পাবে ফুটন্ত পানি, যা তাদের অন্তর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে।” সূরা মুহাম্মদ 47:15
৫) জাহান্নাম মানুষের দিকে ক্রোধে ফুঁসতে থাকবে
“জাহান্নাম যখন তাদের সামনে দেখবে, তখন তা ক্রোধে উত্তাল হবে।” সূরা ফুরকান 25:12
হাদীসে জাহান্নামের বর্ণনা
১) জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের ৭০ গুণ বেশি
রাসূল ﷺ বলেছেন, “জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি।” সহিহ বুখারি
২) জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত পাথর ৭০ বছরেও তলায় পৌঁছায় না
নবী ﷺ বলেছেন, “জাহান্নামে একটি পাথর নিক্ষেপ করা হলে, তা তলায় পৌঁছাতে সত্তর বছর লেগে যাবে।” সহিহ মুসলিম
৩) জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি
রাসূল ﷺ বলেছেন, “জাহান্নামে যে সবচেয়ে হালকা শাস্তি পাবে, তার পায়ের নিচে আগুনের অঙ্গার থাকবে, যাতে তার মগজ ফুটতে থাকবে।” সহিহ মুসলিম
কেন জাহান্নামের কথা জানা জরুরি?
- পাপ থেকে দূরে থাকার জন্য
- আল্লাহর ভয় ও মহিমা অনুভবের জন্য
- সালাত, সৎকর্ম ও তাকওয়া বাড়ানোর জন্য
- দুনিয়ার জীবনকে সঠিক পথে চালানোর জন্য
- পরকালের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য
আল্লাহ আমাদেরকে সতর্ক করার জন্যই জাহান্নামের ব্যাপারে বলেছেন, যাতে আমরা ভুল পথ না বেছে নেই।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে হেফাজত করুন। আমীন।