
করদ্বন/ করযে হাসানা কী?
করযে হাসানা অর্থ হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাউকে সুদবিহীন, নিঃস্বার্থ ঋণ দেওয়া, যেখানে কোনো অতিরিক্ত লাভ, শর্ত বা চাপ থাকে না।
এটি দান নয়, আবার ব্যবসাও নয়, বরং একজন মুসলিম ভাই বা বোনের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো।
কারযে হাসানায় উদ্দেশ্য একটাই:
আল্লাহকে খুশি করা এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করা।
কুরআনে কারযে হাসানার গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা কারযে হাসানাকে নিজের সাথে লেনদেনের সাথে তুলনা করেছেন, এটাই এর সবচেয়ে বড় মর্যাদা।
“কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ (করযে হাসানা) দেবে? তাহলে আল্লাহ তা তার জন্য বহু গুণে বৃদ্ধি করবেন।” (সূরা আল-বাকারা: ২৪৫)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:
“তোমরা যদি আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তবে তিনি তা তোমাদের জন্য দ্বিগুণ করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন।” (সূরা আত-তাগাবুন: ১৭)
এখানে “আল্লাহকে ঋণ” বলতে বোঝানো হয়েছে—আল্লাহর বান্দাদের সাহায্য করা।
হাদিসে কারযে হাসানার ফজিলত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমকে দুইবার ঋণ দেয়, তা একবার সদকা দেওয়ার সমান।”(ইবনে মাজাহ; হাদিস হাসান)
আরেক হাদিসে এসেছে:
“কিয়ামতের দিন আল্লাহ সেই বান্দার সাহায্য করবেন, যে দুনিয়াতে মানুষের সাহায্য করত।”(সহিহ মুসলিম)
কেন করযে হাসানা এত উপকারী?
১. আল্লাহর কাছ থেকে বহুগুণ প্রতিদান
আল্লাহ নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি এই ঋণ বহুগুণে ফিরিয়ে দেবেন।
২. গুনাহ মাফ ও রিজিকের বরকত
করযে হাসানা অন্তর নরম করে, গুনাহ মোচন করে এবং রিজিকে বরকত আনে।
৩. সমাজে ভালোবাসা ও বিশ্বাস তৈরি করে
এতে ধনী-গরিবের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত হয়, হিংসা ও বিদ্বেষ কমে।
৪. সুদ থেকে বাঁচার হালাল বিকল্প
করযে হাসানা মানুষকে হারাম সুদের পথ থেকে রক্ষা করে।
কীভাবে কারযে হাসানা করা যায়?
১. নিঃস্বার্থ নিয়ত দিয়ে শুরু করো
মনে দৃঢ় করো, আমি এটি আল্লাহর জন্য করছি, লাভের জন্য নয়।
২. কোনো সুদ বা অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করবে না
যে কোনো বাড়তি শর্ত করা হারাম।
৩. সামর্থ্য অনুযায়ী ঋণ দাও
অল্প হলেও সমস্যা নেই, আল্লাহ নিয়ত দেখেন।
4. সময়ের ব্যাপারে নমনীয় হও
ঋণগ্রহীতা কষ্টে থাকলে সময় বাড়িয়ে দেওয়া উত্তম আমল।
“যে ব্যক্তি অসচ্ছলকে সময় দেয় বা মাফ করে দেয়, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের কষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।” (সহিহ মুসলিম)
৫. চাইলে ঋণ মাফ করে দাও
সক্ষম হলে ঋণ মাফ করে দেওয়া বড় সদকা।
সন্তানদের জন্য নসিহত: কীভাবে তারা কারযে হাসানা শুরু করবে
আমার প্রিয় সন্তানরা,
তোমরা হয়তো এখন বড় অঙ্কের টাকা দিতে পারো না, কিন্তু করযে হাসানা শুরু করার জন্য বড় সম্পদের প্রয়োজন নেই।
তোমরা যেভাবে শুরু করতে পারো:
- পকেটমানি থেকে অল্প টাকা আলাদা করে রাখো
- কোনো বন্ধুকে বই, খাতা বা প্রয়োজনীয় জিনিস ধার দাও
- পড়াশোনা বা দক্ষতা দিয়ে কাউকে সাহায্য করো
- কখনো কাউকে ঋণ দিলে কড়া ভাষা ব্যবহার করবে না
- মনে রাখবে, এই সাহায্যের প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দেবেন
মনে রেখো,
মানুষকে সাহায্য করলে কখনো গরিব হয় না
আল্লাহর জন্য ধার দিলে তা কখনো ক্ষতি হয় না
আমি চাই, তোমরা এমন মানুষ হও, যাদের কারণে অন্যরা হারাম পথ থেকে বেঁচে থাকে এবং আল্লাহ তোমাদের উপর সন্তুষ্ট থাকেন।
বড়দেরও বলে রাখি জীবনে একবার হলেও করযে হাসানা দিবেন নিয়ত করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
করযে হাসানা শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়, এটি ঈমান, দয়া ও সামাজিক দায়িত্বের প্রকাশ।
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, আল্লাহ কখনো তাকে একা ছেড়ে দেন না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে করযে হাসানা করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের সম্পদকে বরকতময় করুন। আমিন।