
ইসলামের দাওয়াত একটি মহান ইবাদত এবং একই সঙ্গে একটি মহান দায়িত্ব। তাই দাওয়াত দেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
১. আগে নিজে ইসলাম শিখুন, তারপর দাওয়াত দিন
দাওয়াত দেওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, নিজের ইসলামী জ্ঞান ও আমল শুদ্ধ করা। যে ব্যক্তি নিজেই ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো জানে না, সে যদি দাওয়াত দেয়, তাহলে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার আশঙ্কা থাকে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ
“জেনে রাখো—আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।”-সূরা মুহাম্মাদ: ১৯
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইলম (জ্ঞান) আমলের আগেও অপরিহার্য।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যার মাধ্যমে আল্লাহ কারো কল্যাণ চান, তাকে তিনি দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম
অতএব, দাওয়াত দেওয়ার আগে অবশ্যই আকিদা, ফরজ ইবাদত, হালাল-হারাম এবং সহিহ সুন্নাহ সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
২. নিজে আমল না করে শুধু কথা বলা থেকে বিরত থাকুন
যে বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছেন, চেষ্টা করুন অন্তত সে বিষয়ে নিজে আমল করার। নচেৎ দাওয়াতের প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ
“তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও অথচ নিজেদের ভুলে যাও?” সূরা আল-বাকারা: ৪৪
এর অর্থ এই নয় যে সবাই দাওয়াত দিতে পারবে না; বরং অর্থ হলো- নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা ছাড়া দাওয়াত দেওয়া দ্বীনের শিষ্টাচার নয়।
৩. যে বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে দাওয়াত দেবেন না
ইসলামে অনুমান বা ধারণার ওপর কথা বলা নিষিদ্ধ। যদি কোনো বিষয়ে স্পষ্ট দলিল জানা না থাকে, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের নামে বলা যাবে না।
আল্লাহ বলেন:
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ
“যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।” সূরা আল-ইসরা: ৩৬
সুতরাং দাওয়াত হবে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহভিত্তিক।
৪. ধীরে ধীরে দাওয়াত দিন
সবার ঈমান ও বোঝার স্তর এক নয়। তাই দাওয়াত দিতে হবে পর্যায়ক্রমে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন মু’আয (রা.)-কে ইয়ামানে পাঠালেন, তখন বললেন:
“তাদের প্রথমে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে ডাকো।” সহিহ আল-বুখারি
এ থেকে বোঝা যায়, দাওয়াতে অগ্রাধিকার ঠিক রাখা জরুরি।
৫. বিনয় ও আন্তরিকতার সাথে দাওয়াত দিন
ইসলামের দাওয়াত কখনোই অহংকার, তাচ্ছিল্য বা রূঢ়তার মাধ্যমে দেওয়া যাবে না। দাওয়াত হবে দয়া ও আন্তরিকতার সাথে।
পবিতের কুরআনে আল্লাহ বলেন:
وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
“আপনি যদি রূঢ় ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।”সূরা আলে ইমরান: ১৫৯
নসিহত
দাওয়াত মানে শুধু অন্যকে বলা নয়; দাওয়াত মানে নিজে আগে ইসলামের আলোয় চলা, তারপর অন্যদের সেই আলোর দিকে ডাকা।
আসুন, আমরা-
- আগে নিজে সহিহ ইসলাম শিখি
- নিজের আমল ও চরিত্র সংশোধন করি
- এরপর হিকমাহ ও ভালোবাসার সাথে মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান করি
- প্রথমে নিজ পরিবার
- এরপর পরিবারের বাইরের মানুষ
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহ ইলম, খাঁটি আমল এবং কবুলযোগ্য দাওয়াতের তাওফিক দান করুন। আমিন।