
ইসলামের দাওয়াত কী?
ইসলামে দাওয়াত শব্দের অর্থ হলো আহ্বান করা, ডাকা। ইসলামের পরিভাষায় ইসলাম বা দ্বীনের দাওয়াত বলতে বোঝায়,
মানুষকে আল্লাহর দিকে, তাঁর একত্ববাদের দিকে, রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর অনুসরণের দিকে এবং ইসলামের সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার দিকে আহ্বান করা। যারা একাজ করে থাকে তাদেরকে দাঈ বলা হয়।
পবিতের কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
“তোমার প্রতিপালকের পথে মানুষকে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।” সূরা আন-নাহল: ১২৫
ইসলামে দাওয়াত দেওয়ার গুরুত্ব
ইসলামে দাওয়াত দেওয়া উম্মতে মুহাম্মাদির ওপর একটি মহান আমানত।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ
“তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব, তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ কর।” সূরা আলে ইমরান: ১১০
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً
“আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও।” সহিহ আল-বুখারি
এ থেকে বোঝা যায়, দাওয়াত দেওয়া প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব, জ্ঞান অনুযায়ী।
কাকে দাওয়াত দিতে হবে?
১. অমুসলিমদেরকে
অমুসলিমদের ইসলামের মূল আকিদা, তাওহিদ, নবুয়ত, আখিরাত এবং ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে আহ্বান করা দাওয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আলী (রা.)-কে বলেন:
“আল্লাহর শপথ! তোমার মাধ্যমে যদি একজন মানুষও হিদায়াত পায়, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম।” সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম
২. মুসলিদেরও দাওয়াত দিতে হবে
দাওয়াত শুধু অমুসলিমদের জন্য নয়। যারা মুসলমান হয়েও-
- নামাজ পড়ে না
- কুরআন থেকে দূরে
- সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন যাপন করে না
- হারাম কাজে লিপ্ত
- বিদআত ও কুসংস্কারে জড়িত
তাদেরকেও ভালোবাসা ও হিকমাহর সাথে সঠিক ইসলামের পথে ডাকা দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:
وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَىٰ تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ
“স্মরণ করিয়ে দাও, কারণ স্মরণ করানো মুমিনদের উপকারে আসে।” সূরা আয-যারিয়াত: ৫৫
কীভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে?
১. হিকমাহ (প্রজ্ঞা) ও নম্রতার সাথে
কঠোরতা নয়, বরং সুন্দর ভাষা, ধৈর্য ও সহানুভূতির মাধ্যমে দাওয়াত দিতে হবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ মূসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠিয়ে বলেন:
فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا
“তোমরা তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলো।” সূরা ত্বহা: ৪৪
২. নিজের আমলের মাধ্যমে
একজন দাঈর চরিত্রই তার সবচেয়ে বড় দাওয়াত। সততা, ধৈর্য, উত্তম আখলাক মানুষকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্র পূর্ণ করার জন্য।” মুসনাদ আহমাদ
৩. জ্ঞান অনুযায়ী
যে বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান আছে, শুধু সেটুকুই বলা উচিত। অজ্ঞতার সাথে দাওয়াত দেওয়া ক্ষতিকর।
ইসলামে দাওয়াত না দিলে ক্ষতি কী?
দ্বীনের দাওয়াত বন্ধ হয়ে গেলে সমাজে-
- গুনাহ বাড়ে
- কুফর ও ভ্রান্তি ছড়ায়
- মুসলমানদের ঈমান দুর্বল হয়
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا… كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ
“তারা একে অপরকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করত না, এটাই ছিল তাদের ধ্বংসের কারণ।” সূরা আল-মায়িদাহ: ৭৮–৭৯
ইসলামের দাওয়াত কোনো বক্তা বা আলেমদের একক দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক মুসলিম-পুরুষ ও নারী, নিজ নিজ অবস্থান থেকে দাওয়াত দিতে পারে।
- পরিবারের মধ্যে
- বন্ধুদের মাঝে
- সমাজে
- অনলাইন মাধ্যমে
মনে রেখো আগে নিজেকে সংশোধন করা জরুরি, তারপর অন্যদের আল্লাহর পথে ডাকতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে দাঈ হিসেবে কবুল করুন এবং আমাদের মাধ্যমে মানুষকে হিদায়াত দান করুন। আমিন।