
পবিত্র কুরআনে সালাতের প্রতি গুরুত্ব অনেকবার এসেছে, আর আজান হলো সালাতের দিকে আল্লাহর ডাক।
১. মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে কী বলবে
মুয়াজ্জিন যা বলবে, তুমি বলবে
- আল্লাহু আকবার → আল্লাহু আকবার→ একইভাবে বলবে
- আল্লাহু আকবার → আল্লাহু আকবার→ একইভাবে বলবে
- আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ → একইভাবে বলবে
- আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ → একইভাবে বলবে
- হাইয়া আলাস সালাহ → লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
- হাইয়া আলাল ফালাহ → লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
- আল্লাহু আকবার → আল্লাহু আকবার→ একইভাবে বলবে
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-→ একইভাবে বলবে
সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: “যে ব্যক্তি মুআযযিনকে শুনে এ বাক্যগুলো বলবে তার সকল পাপ ক্ষমা করা হবে।”
২. আজানের পর দোয়া
- দরুদ পড়া
- তারপর আজানের বিশেষ দোয়া পড়া
আল্লা-হুম্মা রববা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তা-ম্মাতি ওয়াস সালা-তিল ক্বা-’ইমাতি আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদীলাতা ওয়াব্‘আছহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া‘আদতাহ, (ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ)
৩. আজান ও ইকামতের মাঝের দোয়া
“আজান ও ইকামতের মাঝখানে দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না (অর্থাৎ দোয়া কবুল হয়)।”
এই সময় কী দোয়া করবে
এই সময়ে যে কোনো ভালো দোয়া করা যায়, যেমন
- আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া
- জান্নাত চাওয়া
- দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাওয়া
- নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া করা
উদাহরণ
আজান ও ইকামতের মাঝখানে কিছু সংক্ষিপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
এই সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত, তাই এখানে ছোট ছোট দোয়ার পাশাপাশি কুরআনের দোয়া ও নবী ﷺ শেখানো দোয়া পড়া উত্তম।
১. জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া
اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান-নার
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন
২. জান্নাত চাওয়ার দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই
৩.رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আযাবান নার
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা কর
৪. رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণ: রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সগিরা
অর্থ: হে আমার রব, তাদের প্রতি রহম করুন যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছেন
৫.
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
রব্বিজ আলনি মুকীমাস সালাতি ওয়া মিন যুররিয়্যাতি
রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দু‘আই
অর্থ- হে আমার রব, আমাকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারী বানান এবং আমার সন্তানদের মধ্য থেকেও।
হে আমাদের রব, আমাদের দোয়া কবুল করুন।
এই সময়টি আল্লাহর কাছে দোয়া করার অত্যন্ত মূল্যবান একটি সুযোগ।