
কোন কাজ ডেইলি করলে জান্নাত পাওয়া যায়
আমাদের সবারই সবচেয়ে বড় চাওয়া হলো জান্নাতে যাওয়া, যেখানে কোনো দুঃখ নেই, কোনো কষ্ট নেই, শুধু শান্তি, সুখ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। ইসলাম আমাদের শুধু জান্নাতের কথা বলেনি, বরং জান্নাতের পথও সহজভাবে দেখিয়ে দিয়েছে।
পবিত্র কুরআন এবং হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি কোন কোন ছোট ছোট দৈনন্দিন আমল মানুষকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়।
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেই আমল যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা ছোট হয়।” Sahih al-Bukhari হাদিস নম্বর ৬৪৬৪
জান্নাতের জন্য দৈনন্দিন সহজ আমল চেকলিস্ট
১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়মিত আদায় করা
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কখনো বাদ না দেওয়া। এটি ইসলামের মূল স্তম্ভ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা, এটি জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়
২. প্রতিটি ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসি পড়া
আয়াতুল কুরসি পাঠকারীকে আল্লাহ হেফাজত করেন।
৩. ফজর ও মাগরিবের পর সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়া
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন
“যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পড়ে এবং সে দিন বা রাতে মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” Sahih al-Bukhari হাদিস নম্বর ৬৩০৬
- সায়্যিদুল ইসতিগফার (ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোআ)
اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ
وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ
أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ بِذَنْبِيْ
فَاغْفِرْ لِيْ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ
আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খলাক্বতানী ওয়া আনা ‘আব্দুকা,
ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাত্বা‘তু। আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু,
আবূউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী।
ফাগফির লী, ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা
অর্থ- হে আল্লাহ্! আপনি আমার রব্ব, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা।
আর আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির উপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।
আপনি আমাকে আপনার যে নিয়ামত দিয়েছেন তা আমি স্বীকার করছি, আর আমি স্বীকার করছি আমার অপরাধ।
অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ মাফ করে না।
হাদিস – যে ব্যক্তি সকালবেলা অথবা সন্ধ্যাবেলা এটি (‘সায়্যিদুল ইসতিগফার’) অর্থ বুঝে দৃঢ় বিশ্বাসসহকারে পড়বে, সে ঐ দিন রাতে বা দিনে মারা গেলে অবশ্যই জান্নাতে যাবে।
বুখারী, ৭/১৫০, নং ৬৩০৬।
৪. ঘুমানোর আগে সূরা আল-বাকারা শেষ দুই আয়াত পড়া
সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত
আয়াত ২৮৫
উচ্চারণ: আ-মানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়া মালায়িকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসুলিহী, লা ন্যুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহী। ওয়া ক-লূ সামি’না ওয়া আত্বা’না, গুফরা-নাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর।
আয়াত ২৮৬
উচ্চারণ: লা ইয়ুকাল্লিল্লাহু নাফসান ইল্লা উস’আহা। লাহা মা কাসাবাত ওয়া আলাইহা মাকতাসাবাত। রাব্বানা লা তুয়াহিযনা ইন নাসিনা আও আখত্বা’না। রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহু আলাল্লাযিনা মিন কাবলিনা। রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা ত্বাকাতা লানা বিহ। ওয়া’ফু আন্না, ওয়াগফির লানা, ওয়ারহামনা, আনতা মাওলা-না ফানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরীন।
অর্থ (বাংলা):
- ২৮৫: রাসূল ও মুমিনগণ আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতা, কিতাব ও রাসূলদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। তাঁরা রাসূলদের মধ্যে পার্থক্য করেন না এবং বলেন, “আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তোমার ক্ষমা চাই এবং তোমারই নিকট প্রত্যাবর্তন।”
- ২৮৬: আল্লাহ সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব কারো ওপর চাপান না। কৃতকর্মের প্রতিফল নিজ নিজ ওপর বর্তায়। হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করুন, পূর্ববর্তীদের মতো ভারী দায়িত্ব অর্পণ করবেন না, এবং আমাদের তা বহন করার ক্ষমতা দিন। আমাদের ক্ষমা করুন, দয়া করুন, এবং অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে সাহায্য করুন।
নবী করীম (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতে এ দুটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এ দু’টিই যথেষ্ট হবে” (সহিহ বুখারি)
৫. ওযুর পর দুই রাকাত নফল সালাত (তাহিয়্যাতুল ওযু)
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন
“যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।” Sahih Muslim হাদিস নম্বর ২৩৪
৬. মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল হওয়া
ঘুমানোর আগে সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া একটি বড় নেক আমল।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,
“তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করতে ভালোবাসেন।” সূরা আন-নূর ২৪:২২
৭. ঘুমানোর আগে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন
“যার শেষ কথা হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” Sunan Abu Dawud হাদিস নম্বর ৩১১৬
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
সব আমল একসাথে শুরু করা জরুরি নয়। ইসলাম বলে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো নিয়মিত ছোট ছোট আমল।
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন
“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা কম হয়।” Sahih al-Bukhari হাদিস নম্বর ৬৪৬৫
শেষ কথা
ছোট ছোট দৈনন্দিন আমলই মানুষকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। তাই ধাপে ধাপে শুরু করো, নিয়মিত করো এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এগিয়ে যাও।