কেন?
কেন?

এই প্ল্যাটফর্মে ইসলাম শেখা হয় সবচেয়ে সহজ, পরিষ্কার ও হৃদয়ছোঁয়াভাবে।নামাজ, ওযু, আদব-কায়দা আর আল্লাহকে চেনার সুন্দরতম পথ।

water-drop-4385134_640

আমরা কেন এই দুনিয়াতে এসেছি, কেন আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, কেন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি হয়েছে, কেন নবী–রাসূল পাঠানো হয়েছে , এসব বিষয় জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত ছোটবেলা থেকেই নিজের রবকে চেনা, ইসলামের উদ্দেশ্য বোঝা এবং কুরআন ও সহিহ হাদিস থেকে জ্ঞান অর্জন করা।

আমি জানি ইসলাম সম্পর্কে তোমাদের মনে অনেক প্রশ্ন আসতে পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রেখো, যদি সঠিক উত্তর না জানা যায়, তাহলে মানুষ সহজেই ইসলামের সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যেতে পারে। এজন্য ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই দুনিয়াকে মানুষ ও জিন জাতির জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এই দুইটি সৃষ্টি বিশেষ, কারণ তাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। তারা চাইলে ভালো পথ বেছে নিতে পারে, আবার চাইলে ভুল পথেও যেতে পারে।

এই কারণেই আল্লাহ যুগে যুগে নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য। তারা মানুষকে শিখিয়েছেন কিভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে হয়, কিভাবে জীবন পরিচালনা করতে হয় এবং কিভাবে জান্নাতের পথে চলতে হয়।

একটু ভেবে দেখো, যদি কেউ একটি মেশিন কিনে কিন্তু সেটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয় না জানে, তাহলে কি সে ঠিকভাবে সেটি চালাতে পারবে? অবশ্যই না। এজন্য সেই মেশিনের সাথে একটি ম্যানুয়াল বা নির্দেশিকা দেওয়া হয়, যাতে মানুষ বুঝতে পারে কিভাবে সেটি ব্যবহার করতে হবে।

ঠিক তেমনি আল্লাহ এই জীবন, মৃত্যু, পৃথিবী, আকাশ, মানুষ এবং সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। আর আমাদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য নবী–রাসূল পাঠিয়েছেন এবং কিতাব নাযিল করেছেন।

এই কিতাবগুলোর মাধ্যমে মানুষকে শেখানো হয়েছে কিভাবে আল্লাহর আনুগত্য করতে হয় এবং কিভাবে সঠিক পথে চলতে হয়।

তাই ইসলামের জ্ঞান অর্জন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যত বেশি তুমি কুরআন ও সহিহ হাদিস শিখবে, তত বেশি তুমি আল্লাহকে চিনতে পারবে এবং সঠিক পথ বুঝতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

এই লেখাগুলো তোমাদের সহজভাবে ইসলামকে বুঝতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ। মনোযোগ দিয়ে পড়ো, চিন্তা করো এবং নিজের জীবনে আমল করার চেষ্টা করো।


১. আল্লাহ কেন আমাদের সৃষ্টি করেছেন?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভের আশায় আমরা নেক আমল করি ও তাঁর আদেশ মেনে চলি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধু আমার ইবাদত করার জন্য।”
সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৬


২. আল্লাহ এই দুনিয়া কেন সৃষ্টি করেছেন?

আল্লাহ এই দুনিয়াকে একটি পরীক্ষার স্থান বানিয়েছেন। এখানে মানুষকে পরীক্ষা করা হয় কে আল্লাহর আনুগত্য করে, কে ধৈর্য ধারণ করে, কে সত্যবাদী এবং কে নেক আমল করে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“তিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম আমল করে।”
সূরা আল-মুলক ৬৭:২

যেমন স্কুলে পরীক্ষা নেওয়া হয় ছাত্রদের যোগ্যতা দেখার জন্য, ঠিক তেমনি এই দুনিয়াও একটি পরীক্ষা। আল্লাহ সব জানেন, কিন্তু মানুষ নিজের কাজ নিজেই বেছে নেয়।


৩. আল্লাহ ফেরেশতা কেন সৃষ্টি করেছেন?

ফেরেশতাদের আল্লাহ বিশেষ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। তারা সবসময় আল্লাহর আদেশ পালন করে এবং কখনো অবাধ্য হয় না।

তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে

  • ওহি পৌঁছে দেওয়া
  • মানুষের আমল লেখা
  • আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়ন করা
  • মানুষকে হেফাজত করা

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“ফেরেশতারা আল্লাহর আদেশ অমান্য করে না এবং যা আদেশ করা হয় তাই করে।”
সূরা আত-তাহরিম ৬৬:৬

ফেরেশতারা আল্লাহর অনুগত সৃষ্টি।


৪. আল্লাহ জিন জাতি কেন সৃষ্টি করেছেন?

জিনদেরও মানুষের মতো আল্লাহ ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তারাও পরীক্ষার মধ্যে আছে এবং তাদের মধ্যেও ভালো ও খারাপ রয়েছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধু আমার ইবাদত করার জন্য।”
সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৬


৫. আল্লাহ ইবলিসকে কেন সৃষ্টি করেছেন?

ইবলিস মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা। সে মানুষকে গুনাহের দিকে ডাকতে চেষ্টা করে। কিন্তু যারা আল্লাহকে মেনে চলে তারা নিরাপদ থাকে।

ইবলিস সম্পর্কে কুরআনে এসেছে

  • সে ছিল জিন
  • সে আদম (আ.)-কে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল
  • অহংকারের কারণে সে অভিশপ্ত হয়েছিল
  • সে মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রতিজ্ঞা করেছিল

শিক্ষা

  • অহংকার খুবই খারাপ
  • আল্লাহর আদেশ মানা জরুরি
  • শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে

৬. আল্লাহ জান্নাত কেন সৃষ্টি করেছেন?

যারা ঈমান আনে, নেক আমল করে এবং নবী মুহাম্মদ (সা.) কে অনুসরণ করে তাদের জন্য আল্লাহ জান্নাত সৃষ্টি করেছেন।

জান্নাতে

  • কোনো কষ্ট নেই
  • কোনো মৃত্যু নেই
  • কোনো দুঃখ নেই
  • শুধু শান্তি ও সুখ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।”
সূরা আল-বাকারা ২:২৫


৭. আল্লাহ জাহান্নাম কেন সৃষ্টি করেছেন?

জাহান্নাম হলো অবাধ্য, কুফরকারী ও গুনাহগারদের শাস্তির স্থান।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“যারা কুফরি করেছে তাদের আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম।”
সূরা ফাতির ৩৫:৩৬

আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন আমাদের সবাইকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করেন।


৮. আল্লাহ কেন শুধু তাঁরই ইবাদত করতে বলেছেন?

কারণ আল্লাহই আমাদের একমাত্র স্রষ্টা, রিজিকদাতা ও পালনকর্তা। আমাদের শরীর, জীবন, শ্বাস, খাবার, পানি সবকিছুই তাঁর দান। তাই শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করা আমাদের দায়িত্ব।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“আমি জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধু আমার ইবাদত করার জন্য।”
সূরা আয-যারিয়াত ৫১:৫৬


৯. যদি আল্লাহ সব জানেন, তাহলে মানুষ কেন শাস্তি পাবে?

আল্লাহ মানুষকে ভালো ও মন্দ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনি জানেন মানুষ কী করবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত মানুষ নিজেই নেয়।

যেমন একজন শিক্ষক আগে থেকেই বুঝতে পারেন কোন ছাত্র ভালো করবে, কিন্তু পরীক্ষার উত্তর ছাত্র নিজেই লিখে। ঠিক তেমনি মানুষ নিজের কাজের জন্য নিজেই দায়ী।


১০. আল্লাহ এত নবী–রাসূল কেন পাঠিয়েছেন?

মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যেত এবং পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ত, তখন আল্লাহ নবী–রাসূল পাঠাতেন মানুষকে সঠিক পথে ফেরানোর জন্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“আমি প্রত্যেক জাতির কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি।”
সূরা আন-নাহল ১৬:৩৬


১১. আল্লাহ কেন শেষ নবী হিসেবে মুহাম্মদ ﷺ–কে পাঠালেন?

আগের নবীরা নির্দিষ্ট জাতির জন্য এসেছিলেন। কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সা.) পুরো মানবজাতির জন্য শেষ নবী হিসেবে পাঠানো হয়েছেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরণ করেছি।”
সূরা সাবা ৩৪:২৮

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আরও বলেন

“মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের কারও পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী।”
সূরা আল-আহযাব ৩৩:৪০


১২. কেন আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ–কে অনুসরণ করতে হবে?

কারণ তিনি আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন থেকে আমরা শিখি কিভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে হয়, মানুষের সাথে আচরণ করতে হয় এবং ইসলামের উপর চলতে হয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন

“নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।”
সূরা আল-আহযাব ৩৩:২১


শেষ কথা

এই দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়। আমরা সবাই একদিন আল্লাহর কাছে ফিরে যাব। তাই ছোটবেলা থেকেই আল্লাহকে ভালোবাসতে শেখো, সালাত পড়ো, কুরআন পড়ো, সত্য কথা বলো এবং নবী ﷺ–এর সুন্নাহ অনুসরণ করো।

আল্লাহ তোমাদের সবাইকে নেক সন্তান হিসেবে কবুল করুন, ঈমানের উপর জীবন ও মৃত্যু দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমীন।

শেয়ার করুন

Related Topic

No data was found