
আল্লাহ সৃষ্টির শুরু থেকে অসংখ্য নবী-রসূল পাঠিয়েছেন। প্রত্যেক নবী ও রসুল আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে একই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন: এক আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর নির্দেশ মানা। আদম (আঃ) থেকে শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত একই দাওয়াত – আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরীক নেই।
আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য যুগে যুগে বহু নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। মানুষের সংখ্যা, জাতি, ভাষা ও সময় ভিন্ন হওয়ার কারণে আল্লাহ প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের ভাষায় ও অবস্থা অনুযায়ী পথপ্রদর্শক পাঠিয়েছেন।
কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“এমন কোনো জাতি নেই যার কাছে সতর্ককারী আসেনি।”
সূরা ফাতির ৩৫:২৪
কেন এত নবী পাঠানো হয়েছিল?
১. মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে ডাকতে
সব নবীর মূল দাওয়াত ছিল একটাই-
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, শুধু তাঁরই ইবাদত করতে হবে।
আল্লাহ বলেন:
“আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই বলে যে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে বেঁচে থাক।’” সূরা নাহল ১৬:৩৬
২. মানুষ যখন দ্বীন ভুলে যেত
সময়ের সাথে মানুষ নবীদের শিক্ষা পরিবর্তন করত, ভুলে যেত বা শিরক ও গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ত। তখন আল্লাহ নতুন নবী পাঠিয়ে মানুষকে আবার সত্য পথে ফিরিয়ে আনতেন।
৩. বিভিন্ন জাতি ও অঞ্চলের জন্য
সব মানুষ একই জায়গায় বা একই ভাষায় ছিল না। তাই আল্লাহ বিভিন্ন জাতির জন্য বিভিন্ন নবী পাঠিয়েছেন।
৪. আল্লাহর রহমত হিসেবে
নবী-রাসূল পাঠানো ছিল আল্লাহর দয়া ও করুণা। যেন মানুষ কিয়ামতের দিন বলতে না পারে-
“আমাদের কাছে তো কেউ সত্যের বার্তা পৌঁছায়নি।”
৫. শেষ নবী পর্যন্ত পথপ্রদর্শন অব্যাহত রাখা
অবশেষে আল্লাহ সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ দ্বীনসহ মুহাম্মাদ ﷺ-কে পাঠিয়েছেন, যিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য শেষ নবী। তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না।
আল্লাহ বলেন:
“মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের কারো পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী।”
সূরা আহযাব ৩৩:৪০