ইস্তিগফার কী?
ইস্তিগফার কী?

এই প্ল্যাটফর্মে ইসলাম শেখা হয় সবচেয়ে সহজ, পরিষ্কার ও হৃদয়ছোঁয়াভাবে।নামাজ, ওযু, আদব-কায়দা আর আল্লাহকে চেনার সুন্দরতম পথ।

lantern-8590221_640

ইস্তিগফার শব্দের অর্থ হলো-আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। অর্থাৎ, নিজের গুনাহ স্বীকার করে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে বলা:
“হে আল্লাহ, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।”

ইস্তিগফার শুধু বড় গুনাহের জন্য নয়; বরং জানা-অজানা, ছোট-বড় সব গুনাহের জন্যই করা উচিত। এমনকি নেককার বান্দারাও নিয়মিত ইস্তিগফার করতেন। নবি সাঃ প্রতিদিন ৭০ মতান্তরে ১০০ বার ইস্তিগফার করতেন। তিনি আল্লাহর প্রিয় ছিলেন। তাঁর জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্হান নির্ধারিত ছিল। তবুও তিনি নিয়মিত ইস্তিগফার করতেন।


কখন ইস্তিগফার করা উচিত?

ইস্তিগফার করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, যে কোনো সময়ই ইস্তিগফার করা যায়। হাটতে চলতে উঠতে বসতে তুমি ইস্তিগফার করতে পার। 

তবে কিছু সময় বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ:

  • নামাজের পরে
  • (শেষ রাত)
  • কোনো গুনাহ হয়ে গেলে সাথে সাথে
  • বিপদ, দুশ্চিন্তা বা কষ্টের সময়
  • ঘুমানোর আগে
  • ফজর ও মাগরিবের পর

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: “তারা রাতের শেষ ভাগে ক্ষমা প্রার্থনা করে।” (সূরা আয-যারিয়াত: ১৮)


ইস্তিগফারের উপকারিতা ও ফজিলত

১. গুনাহ মাফ হয়

ইস্তিগফারের সবচেয়ে বড় উপকার হলো—আল্লাহ গুনাহ ক্ষমা করেন।

“হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।” (সূরা আয-যুমার: ৫৩)


২. রিজিক বৃদ্ধি পায় ও সংকট দূর হয়

নবি নূহ (আ.) তার কওমকে বলেছিলেন:

“তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; তিনি তো অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি আকাশ থেকে তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করবেন।” (সূরা নূহ: ১০–১২)


৩. অন্তরে প্রশান্তি আসে

ইস্তিগফার হৃদয়কে হালকা করে, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা কমায়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে আঁকড়ে ধরে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি সংকট থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন।” (আবু দাউদ)


৪. আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়

যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করে, সে আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যায়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে একশতবারেরও বেশি ইস্তিগফার করি।” (সহিহ মুসলিম)

দুয়া কবুল হয় – বেশি বেশি ইস্তিগফার করলে দুয়া কবুল হয় ।


কীভাবে নিয়মিত ইস্তিগফার করা যাবে?

১. দৈনিক একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা ঠিক করো (but not limited to)

যেমন, প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তিগফার।

২. অবসর সময়ে মুখে ইস্স্তিগফার করতে থাকো

হাঁটার সময়, রান্নার সময়, গাড়িতে—মুখে মুখে ইস্তিগফার পড়া যায়।

৩. তাসবিহ বা আঙুল ব্যবহার করো

এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

. গুনাহের পর দেরি না করো

ভুল হয়ে গেলে সাথে সাথেই ইস্তিগফার করো।


সহজ ও ফজিলতপূর্ণ কিছু ইস্তিগফার

১. সবচেয়ে সহজ

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই


২. বেশি ফজিলতপূর্ণ

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তওবা করি

.মুহাম্মদ (সা.) একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইস্তিগফারের দোয়া শিখিয়েছেন।

তিনি বলেছেন- “যে ব্যক্তি বলবে

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি

আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও সমগ্র সৃষ্টির ধারক-বাহক। আর আমি তাঁর কাছেই তওবা করছি।

এরপর রাসূল ﷺ বলেছেন- “যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়, তবুও তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”

Sunan Abu Dawud হাদিস নম্বর ১৫১৭
Jami at-Tirmidhi হাদিস নম্বর ৩৫৭৭


. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (সবচেয়ে উত্তম)

আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।
খালাকতানি ওয়া আনা ‘আবদুকা।
ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু।
আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা সনা‘তু।
আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া।
ওয়া আবূউ বিদাম্বী।
ফাগফির লী।
ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্-যুনূবা ইল্লা আনতা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে দিনে বা রাতে এই দোয়া পড়ে এবং মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ বুখারি)


ইস্তিগফার শুধু জিহ্বার আমল নয়—এটি হৃদয়ের অনুশোচনা, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা। যত বেশি ইস্তিগফার করবো, তত বেশি আমাদের জীবন সহজ হবে, অন্তর শান্ত হবে এবং আখিরাত সুন্দর হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি ইস্তিগফার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


শেয়ার করুন

Related Topic

No data was found