
ঈমান
অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল।
ব্যাখ্যা: মুসলমান হওয়ার প্রথম শর্ত হলো এক আল্লাহকে মানা এবং তাঁর প্রেরিত রাসূলকে অনুসরণ করা। এটাই আমাদের ঈমানের ভিত্তি। তবে ঈমান শুধু মুখে বলার নাম নয়; ঈমান পূর্ণ হতে হলে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয়। এই অংশটি খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করো:
ইসলামে ঈমান কেবল মৌখিক ঘোষণা নয়, বরং এটি বিশ্বাস, কথা ও কাজের সমন্বয়। নিচের ৩টি শর্ত পূরণ না হলে ঈমান সম্পূর্ণ হয় না:
১. তাসদীক বিল-কাল্ব (অন্তর থেকে বিশ্বাস করা)
- অর্থ: অন্তর দিয়ে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা যে আল্লাহ আছেন, তিনি এক এবং মুহাম্মদ (সা.) তাঁর প্রেরিত রাসূল।
- ব্যাখ্যা: অর্থাৎ, শুধু মুখে বললেই হবে না যে আমার ঈমান আছে, আসল বিশ্বাসটা মন ও হৃদয়ে থাকতে হবে। মনে কোনো প্রকার সন্দেহ রাখা যাবে না।
২. ইকরার বিল-লিসান (জিহ্বা দিয়ে স্বীকার করা)
- অর্থ: মুখে উচ্চারণ করে ঈমানের সাক্ষ্য দেওয়া, অর্থাৎ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” বলা।
- ব্যাখ্যা: অন্তরে বিশ্বাস করার পর তা মুখে প্রকাশ করতে হয়। এটাই মুসলিম হওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা। যখন কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তাঁকে কালিমা মুখে উচ্চারণ করতে হয়।
৩. আমল বিল-জাওয়ারিহ (কর্ম দিয়ে প্রমাণ করা)
- অর্থ: শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে ঈমানের প্রতিফলন ঘটানো। অর্থাৎ যা চোখে দেখা যায় এমন কাজের মাধ্যমে আনুগত্য প্রকাশ করা।
- ব্যাখ্যা: আমরা যে সমস্ত ইবাদত করি, যেমন সালাত (নামাজ), সিয়াম (রোজা), হজ, জাকাত ইত্যাদি, এসব কাজের মাধ্যমেই ঈমানের প্রমাণ পাওয়া যায়।
সংক্ষেপে ঈমান হলো:
- হৃদয়ে বিশ্বাস
- মুখে ঘোষণা
- কাজে প্রমাণ
এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়েই প্রকৃত ঈমান পূর্ণ হয়। এর যেকোনো একটির অভাব থাকলে ঈমান অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
================================================================
ঈমানের পূর্বশর্ত হলো “ঈমান সঠিক হওয়ার জন্য কী কী থাকা প্রয়োজন”। আর ঈমানের স্তম্ভ হলো “কি কি বিশ্বাস করতে হবে”।
ঈমানের স্তম্ভ (ঈমানের মূল বিষয়সমূহ)
ইমানের ছয়টি স্তম্ভ একজন মুসলিমের বিশ্বাসের মূল ভিত্তি। এই ছয়টি বিষয়ের উপর দৃঢ় বিশ্বাস ছাড়া পূর্ণাঙ্গ ঈমান সম্পূর্ণ হয় না।
যেমন একটি ঘর মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি একজন মুসলিমের ঈমানও এই ছয়টি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো মানুষের হৃদয়, চিন্তা, আমল ও জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।
ইমানের ছয়টি স্তম্ভ হলো
১. আল্লাহর উপর ঈমান
২. ফেরেশতাদের উপর ঈমান
৩. আল্লাহর কিতাবসমূহের উপর ঈমান
৪. নবী ও রাসূলদের উপর ঈমান
৫. আখিরাত বা পরকালের উপর ঈমান
৬. তাকদীরের ভাল ও মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার উপর ঈমান
আল্লাহর ওপর ঈমান
আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা ও পালনকর্তা- এতে বিশ্বাস করা।
ফেরেশতাদের ওপর ঈমান
আল্লাহর সৃষ্ট ফেরেশতারা তাঁর আদেশ পালন করেন- এতে বিশ্বাস করা।
আসমানি কিতাবসমূহের ওপর ঈমান
কুরআন, তাওরাত, যবুর, ইনজিলসহ আল্লাহর নাজিলকৃত সব কিতাবে বিশ্বাস করা।
রাসূলগণের ওপর ঈমান
আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ ﷺ পর্যন্ত সব নবী ও রাসূল আল্লাহর প্রেরিত- এতে বিশ্বাস করা।
আখিরাতের দিনের ওপর ঈমান
মৃত্যু পরবর্তী জীবন, কিয়ামত, হিসাব, জান্নাত ও জাহান্নামে বিশ্বাস করা।
তাকদিরের ওপর ঈমান (ভাল ও মন্দ উভয়ই)
ভালো-মন্দ সবকিছু আল্লাহর ইলম ও ইচ্ছায় ঘটে- এতে বিশ্বাস করা।
============================================
ঈমানের স্তম্ভসমূহ(কুরআন ও হাদিসের রেফারেন্স)
১. আল্লাহর ওপর ঈমান
📖 “আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই,এতে বিশ্বাস করা।‘
সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ১৯
২. ফেরেশতাদের ওপর ঈমান
📖 “রাসূল ঈমান এনেছেন তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা তাঁর প্রতি নাজিল হয়েছে এবং মুমিনরাও; সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর।”
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৮৫
৩. আসমানি কিতাবসমূহের ওপর ঈমান
📖 “তিনি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাজিল করেছেন, পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যতা প্রদানকারী হিসেবে।”
সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৩
৪. রাসূলগণের ওপর ঈমান
📖 “আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।”
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৮৫
৫. আখিরাতের দিনের ওপর ঈমান
📖 “আর আখিরাতে তারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।”
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪
৬. তাকদিরের ওপর ঈমান (ভাল ও মন্দ উভয়ই)
📖 “নিশ্চয়ই আমরা প্রত্যেক জিনিস একটি নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী সৃষ্টি করেছি।”
সূরা আল-কামার, আয়াত ৪৯
হাদিসের রেফারেন্স
হাদিসে জিবরাঈল (আ.)
নবী ﷺ বলেন:
“ঈমান হলো, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, আখিরাতের দিন এবং তাকদিরের ভাল ও মন্দ, সব কিছুর ওপর ঈমান আনবে।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮