
সুন্নাহ কী?
সুন্নাহ বলতে নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর কথা, কাজ, অভ্যাস, চরিত্র এবং জীবনধারাকে বোঝায়।
তিনি কিভাবে সালাত পড়তেন, কিভাবে খেতেন, ঘুমাতেন, মানুষের সাথে আচরণ করতেন, দোয়া করতেন, সবকিছুই আমাদের জন্য শিক্ষা।
সুন্নাহ হলো এমন একটি পথ, যা আমাদের আল্লাহর আরও প্রিয় বান্দা হতে সাহায্য করে।
কেন সুন্নাহ এত গুরুত্বপূর্ণ?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জন্য পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। কিন্তু কুরআনকে বাস্তবে কিভাবে পালন করতে হবে, আল্লাহ কী চান, কীভাবে ইবাদত করতে হবে তা শেখানোর জন্য আল্লাহ নবী মুহাম্মদ ﷺ–কে পাঠিয়েছেন।
অর্থাৎ কুরআন হলো আল্লাহর বাণী, আর নবী ﷺ আমাদেরকে সেই বাণীর বাস্তব শিক্ষা দিয়েছেন।
যেমন কুরআনে সালাত আদায়ের আদেশ আছে, কিন্তু কিভাবে সালাত পড়তে হবে, কত রাকাত, কী পড়তে হবে এসব আমরা নবী ﷺ–এর সুন্নাহ থেকে শিখি।
কুরআনে যাকাত, রোযা, হজ্জের কথা আছে, কিন্তু সেগুলো কিভাবে পালন করতে হবে তা নবী ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন
“নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।”
সূরা আল-আহযাব ৩৩:২১
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আরও বলেন
“রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।”
সূরা আল-হাশর ৫৯:৭
আরও বলেন
“তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।”
সূরা আলে ইমরান ৩:৩১
সুন্নাহ অনুসরণ করলে কী লাভ?
- আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়া যায়
- আমল সুন্দর ও পূর্ণ হয়
- জীবনে বরকত আসে
- ছোট ছোট কাজেও সওয়াব পাওয়া যায়
- কিয়ামতের দিন নবী ﷺ–এর নিকটবর্তী হওয়া যায়
মনে রাখবে
কুরআন এবং সুন্নাহ একসাথে ইসলামের পূর্ণ পথ দেখায়। শুধু কুরআন পড়লেই হবে না, নবী ﷺ কিভাবে সেই কুরআন অনুযায়ী জীবন কাটিয়েছেন সেটাও শিখতে হবে।
যত বেশি আমরা নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর সুন্নাহ অনুসরণ করব, তত বেশি আমরা সঠিক ইসলামের পথে চলতে পারব ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
১. কাজ শুরুর আগে “বিসমিল্লাহ” বলা
খাওয়া, লেখা, পড়া, ঘর থেকে বের হওয়া সব ভালো কাজের আগে “বিসমিল্লাহ” বলা সুন্নাহ।
ফজিলত:
আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করলে কাজে বরকত হয় এবং শয়তান দূরে থাকে।
📖 হাদিস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে কাজ ‘বিসমিল্লাহ’ ছাড়া শুরু করা হয়, তা বরকত থেকে বঞ্চিত হয়।”
(সহিহ হাদিসের মর্মার্থ, হাকিম; আলবানী সহিহ বলেছেন)
২. ডান দিক দিয়ে ভালো কাজ শুরু করা
পোশাক পরা, জুতা পরা, অজু শুরু করা সব ভালো কাজে ডান দিক থেকে শুরু করা।
📖 হাদিস:
“নবি ﷺ পবিত্রতা ও সম্মানজনক কাজে ডান দিক দিয়ে শুরু করতে পছন্দ করতেন।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
৩. খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়া
স্বাস্থ্য ও সুন্নাহ দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।
📖 হাদিস:
“খাবারের আগে ও পরে হাত ধোয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।”
(তিরমিজি; হাদিস হাসান)
৪. ডান হাতে খাওয়া ও পান করা
হাদিস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমরা ডান হাতে খাও ও ডান হাতে পান করো, কেননা শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।”
(সহিহ মুসলিম)
৫. খাবারের দোষ না ধরা
খাবার পছন্দ না হলে চুপ থাকা সুন্নাহ।
📖 হাদিস:
“নবি ﷺ কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না; পছন্দ হলে খেতেন, না হলে ছেড়ে দিতেন।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
৬. সাক্ষাতে সালাম দেওয়া
পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া সুন্নাহ।
📖 হাদিস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার করো।”
(সহিহ মুসলিম)
৭. হাসিমুখে কথা বলা
ভ্রুক্ষেপ বা রূঢ়তা নয়, নরম ব্যবহার সুন্নাহ।
📖 হাদিস:
“তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও সদকা।”
(তিরমিজি; সহিহ)
৮. হাঁচি দিলে “আলহামদুলিল্লাহ” বলা
এবং কেউ বললে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা।
📖 হাদিস:
“আল্লাহ হাঁচিকে পছন্দ করেন… যখন কেউ হাঁচি দিয়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে, তখন তার জন্য দোয়া করা মুসলিমের উপর হক।”
(সহিহ বুখারি)
৯. ঘুমানোর আগে অজু করা
এটি রাতের ইবাদতের নেক নিয়ত হিসেবেও গণ্য হয়।
📖 হাদিস:
“যখন তুমি শয্যায় যাবে, তখন নামাজের মতো অজু করে নাও।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
১০. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা
দিনে অন্তত ১০০ বার ইস্তিগফার করা সুন্নাহ।
📖 হাদিস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে একশতবারেরও বেশি ইস্তিগফার করি।”
(সহিহ মুসলিম)
এই সুন্নাহগুলো খুবই সহজ, কিন্তু এর সওয়াব অনেক বড়। নিয়মিত আমল করলে-
- ঈমান মজবুত হয়
- চরিত্র সুন্দর হয়
- দৈনন্দিন জীবন ইবাদতে পরিণত হয়
- নবিকে ভালবাসা হয়