
পৃথিবীজুড়ে কখনও বন্ধ হয় না আযানের ধ্বনি। সময়ের প্রবাহে এক স্থান থেকে আরেক স্থান, এক দেশ থেকে আরেক দেশে, ফজর থেকে এশা, সারা দুনিয়াব্যাপি আজান চলতেই থাকে।
ভৌগলিক অবস্থান ও সময়ের ব্যবধানের কারণে পৃথিবীজুড়ে কখনো বন্ধ হয় না আযানের ধ্বনি। ইন্দোনেশিয়া-পাপুয়া নিউগিনি থেকে ফজরের আযান শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে পূর্ব থেকে পশ্চিমে অব্যাহতভাবে ফজরের আযান চলতে চলতে তা সর্বপশ্চিমের দেশ আমেরিকা, মৌরতানিয়ায় গিয়ে শেষ হয়। এভাবেই এক দেশের পর আরেক দেশ, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে ফজর থেকে জোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা হয়ে আবার ফজরের আযান চলতে থাকে; কখনো থামে না। আমেরিকায় যখন ফজরের আযান শুরু হয় তখন ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হয় যোহর। এভাবে সাইক্লিক অর্ডারে পৃথিবীজুড়ে বিরামহীনভাবে দিন-রাত ২৪ঘন্টা ধ্বনিত হতে থাকে আযান। এ যেন আযানের ডমিনো ইফেক্ট, চেইন রিএ্যাকশন। ভোরের আযানের ধ্বনিতে পৃথিবীর মানুষ একে একে জেগে ওঠে আবার রাতে আযান শুনে একে একে ঘুমোতে যায়।
অধিকাংশ মুয়াজ্জিনের আযান সুমধুর, সুরেলা। আযানের ধ্বনি আমাদের মনকে প্রশান্ত করে। অনেক অমুসলিমও আযান ভালবাসে; কেউ কেউ তো আযান শুনেই মুসলিম হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বিলাল (রাঃ)। তিনি মসজিদে নববীতে প্রথম আযান শুরু করেন।
আযানের বাণীগুলো বলতে গেলে সবার জানা; কী অসাধারণ আর অনন্য! প্রতিদিন ৫বার আযান দিয়ে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য, নামাজ ও কল্যাণের জন্য বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানানো হয়। পৃথিবী ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এ সাক্ষ্য-ঘোষণা-আহ্বান চলতেই থাকবে।
কোরআনে বলা হয়েছে, “তিনিই রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিবর্তন করেন, তিনি সূর্য ও চাঁদ নিয়ন্ত্রণ করছেন; প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্টকাল আবর্তন করে..।’’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ১৩)। এ নিয়মে আযানও অবিরত আবর্তিত হচ্ছে।
‘আযান’ আরবি শব্দ, এর অর্থ আহ্বান বা ঘোষণা। নামাজের সময় জানানো এবং জামাতে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানানোই আযানের মূল লক্ষ্য।
ইসলাম শুরুর যুগে পবিত্র নগরী মক্কায় আজান ছাড়াই নামাজ পড়া হতো। আযানের প্রচলন শুরু হয় ১ম বা ২য় হিজরিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর।
আজানের কথাগুলো স্বপ্নে পাওয়া। মহানবী (সাঃ) মদিনায় হিজরত করে মসজিদ নির্মাণ করলেন এবং মুসলমানদের নামাজে অংশগ্রহণের জন্য একত্রিত করতে সবার পরামর্শ চাইলেন। কেউ বললেন, নামাজের সময় হলে পতাকা উড়াতে। কেউ শিঙ্গা বাজাতে বললেন। কেউবা ঘন্টা বাজাতে। মহানবীর এগুলো পছন্দ হলো না। সেদিন আর কোনো সিদ্ধান্ত হলো না। পরের দিন ভোরে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ এসে
মহানবীকে আজানের বাক্যগুলো শুনিয়ে বললেন, গতরাতে স্বপ্নে কেউ একজন তাঁকে এগুলো শিখিয়ে গেছেন। বাক্যগুলো মহানবীর পছন্দ হলো। তিনি বললেন, ‘তোমার স্বপ্ন সত্য। তুমি বেলালকে আজানের বাক্যগুলো শিখিয়ে দাও। আজ থেকে বেলাল আজান দেবে।’ সেই থেকে নামাজের জন্য আজানের শুরু। হযরত ওমরও (রাঃ) এরকম স্বপ্ন দেখেছিলেন।
“আসসালাতু খাইরুম-মিনান-
নাউম” ( ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম) বাক্যটি ফজরের আজানে পরে যুক্ত করা হয়েছে।